• বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম, পথের কাঁটা সরাতে অপহরণের গল্প ফেঁদে খুনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার স্ত্রী ও প্রেমিক
    এই সময় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বন্ধু কাজ করতেন চেন্নাইয়ে। সেই সুযোগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক। রবিবার বন্ধু বাড়িতে ফেরার পরে সপরিবারে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান ওই ব্যক্তি। এর পরে বন্ধুকে নিয়ে একটি গয়নার দোকানে যান। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে খুন করে পরিবারের লোকজনের কাছে দাবি করেন, বন্ধুকে অপহরণ করেছেন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা। তদন্তে নেমে অবশ্য একের পর এক তথ্য সামনে আনতে শুরু করে পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার খেতিয়া বিজয়বাটি এলাকায়। মৃতের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারি (৪৪)। এই ঘটনায় সফিকুলের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং বন্ধু মমতাজউদ্দিন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে মিলিকপাড়ায় মমতাজউদ্দিন শেখের বাড়িতে যান সফিকুল। তাঁরা পূর্ব পরিচিত। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পরে সফিকুল এবং মমতাজউদ্দিন স্থানীয় একটি গয়নার দোকানে কেনাকাটা করতে যান।

    এ দিন সন্ধ্যায় মমতাজউদ্দিন দেওয়ানদিঘি থানায় একা এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, গয়নার দোকান থেকে বাইকে করে ফিরছিলেন তিনি এবং সফিকুল। সেই সময়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। তিনি কোনও মতে সেখান থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরতে পারলেও দুষ্কৃতীদের হাতে ধরা পড়ে যান সফিকুল। প্রথমে মমতাজউদ্দিনের মন্তব্যের উপর ভিত্তি করেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু তাঁর মন্তব্যে একাধিক অসংলগ্ন কথাবার্তা খুঁজে পান তদন্তকারীরা। এর পরে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তদন্তে জানা যায়, কর্মসূত্রে সফিকুল চেন্নাইয়ে থাকাকালীন মমতাজউদ্দিন ও রাজিয়ার মধ্যে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মমতাজউদ্দিনও বিবাহিত। কিন্তু রাজিয়াকে বিয়ে করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। এর পরে রাজিয়া এবং মমতাজউদ্দিন যৌথ ভাবে পরিকল্পনা করে সফিকুলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। ইতিমধ্যেই সফিকুলের দেহ একটি সেচ ক্যানেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজিয়া এবং মমতাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, সফিকুলের মাথায় কোনও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)