দার্জিলিংয়ে ৩০ জন মুসলিমকে হিয়ারিংয়ে ডাক নিয়ে বিতর্ক, কেন?
আজ তক | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এসআইআর-এ হিয়ারিং নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শনিবার শুনানির শেষ দিনে এসআইআর হিয়ারিংয়ের জন্য দার্জিলিংয়ে ডেকে পাঠানো হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩০ জন ব্যক্তিকে। তবে অভিযোগ, অন্য ধর্মের ব্যক্তিদের থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই নাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তিদের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যে ব্যক্তিদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা নাকি ভারতীয় নন। যদিও প্রশাসনের তরফে দাবি, শুধু মুসলিম সম্প্রদায় না অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও এই একই ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছিল।
জেলা শাসকের দফতরে শুনানিতে আসা এক ব্যক্তি এদিন অভিযোগ করেন,কেউ একজন ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে সেখান থেকে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কিছু নাম চিহ্নিত করে নির্বাচন দফতরে আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি চৌক বাজারের ওই ব্যক্তির অভিযোগ, দু'জন ব্যক্তি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিল। সেই কারণেই তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, "সমস্ত ডকুমেন্টস জমা করে দিয়েছি।" ওই ব্যক্তির দাবি, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই একই অভিযোগ আনা হয়েছে। যার থেকে তাঁর সন্দেহ, ইচ্ছাকৃত ভাবে মুসলিম ব্যক্তিদেরই এক্ষেত্রে টার্গেট করা হয়েছে।
রকভিল রোডের আরেক মহিলা জানান, তিনিও নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানির নোটিশ পেয়েছেন। গত শুক্রবার নোটিশ পাওয়ার পর শনিবার তিনি শুনানিতে উপস্থিত হয়ে সমস্ত বৈধ নথি জমা দেন। তাঁর দাবি, তিনি জন্মসূত্রে দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা। তবে শুধু ওই মহিলা একা নন, হিয়ারিংয়ে আসা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, তাঁদের জন্ম ও বড় হওয়া দার্জিলিংয়ে। এমনকী নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকের নাম ২০০২-এর লিস্টে আছে বলেও দাবি করেন শুনানিতে আসা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানিতে ডাকা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ জমা পড়েছে। যাঁরা বৈধ নথি দেখাতে পেরেছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। আর যাঁরা প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারেননি, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।