উত্তরপ্রদেশের মৌলানা জারজিশ আনসারি হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবগুলিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে ফের একবার মুসলিমদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, 'তোমাদের লঙ্গর, ভাণ্ডারা, বাঁক কাঁধে নিয়ে হাঁটা, হোলি খেলা, সবই তো রাস্তায় হয়। আমাদের নমাজ পাঠ রাস্তায় হবে না কেন?'
কাঁওয়ার যাত্রী অর্থাৎ যাঁরা কাঁধে বাঁক নিয়ে শিবমন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন কিংবা রাস্তায় হোলি উৎসবে রং খেলেন, তাঁদের নিয়েও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন এই মৌলানা জারজিশ।
দিন তিনেক আগে, মহাশিবরাত্রি নিয়ে বাংলার কালিয়াচকে এসে উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছেন এই ইসলাম ধর্মগুরু। মৌলানা বলেন, 'উত্তরপ্রদেশে জুম্মার দিন রাস্তায় ৫ মিনিট নমাজ পড়তে দেওয়া হয় না। আমাদের মসজিজের ভিতরেই নমাজ পাঠ করতে বলা হয়। হিন্দুদের ভাণ্ডারা বা কাঁওয়ার যাত্রীদের তো এমন কিছু নির্দেশ দেওয়া হয় না। ওঁরা রাস্তা দিয়ে বাঁক কাঁধি নিয়ে যানজট সৃষ্টি করে যাবে কিন্তু আটকানো হবে না। কেন? উত্তরপ্রদেশে ওঁদের উপর হেলিকপ্টার থেকে ফুল বর্ষণ করা হয়। হোলির রং রাস্তায় ছোড়া হয়। আর আমরা যদি তার বিরোধিতা করি, আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।'
এর আগে উত্তরপ্রদেশের মৌলানার মুখে মমতার রাজ্যের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ারের এই মৌলানার মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। বক্তৃতায় মৌলানা জারজিশ আনসারি উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসা ও মসজিদের উপর প্রশাসনিক দমন-পীড়নের বিষয়ে মন্তব্য করেন। মুসলিমদের বাংলায় স্থানান্তরিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মৌলানার মতে, এ রাজ্য মুসলিমদের জন্য নিরাপদ। তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়। বাংলায় একটি ধর্মীয় সমাবেশে উত্তরপ্রদেশের ওই মৌলানাকে বলতে শোনা যায়, 'উত্তরপ্রদেশ মুসলিমদের জন্য নিরাপদ নয়। যদি কোনও নিরাপত্তা থাকে তবে তা বাংলায়। উত্তরপ্রদেশে শত শত মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং রাত ১০টার পর লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ।'