প্রতিবারের মতো এবারও বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির শীর্ষ নেতারা বঙ্গে আসতে শুরু করেছেন। পদ্ম শিবিরের পাখির চোখ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। বাংলা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দিনের বঙ্গ সফরে মালদহ ও হুগলিতে সভা করেছিলেন। জানুয়ারি মাসের শেষে এসেছিলেন অমিত শাহ। ব্যারাকপুর ও শিলিগুড়িতে দু’টি সভা করেন তিনি। কিছু দিনের ব্যবধানে ফের বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার মায়াপুরের ইসকনের মন্দিরে যাবেন তিনি। বিজেপি সূত্রে খবর একদিনের সফরে আসছেন তিনি।
ইসকনের শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২ তম জন্ম উৎসব রয়েছে। সেখানে যোগ দিতেই মায়াপুরে আসছেন অমিত শাহ। দুপুর ২টো নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন তিনি। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর কপ্টারে করে যাবেন মায়াপুরে। অস্থায়ী হেলিপ্যান্ড গ্রাউন্ডে অবতরণ করবে শাহর কপ্টার। সেখান থেকে সড়কপথে প্রথমে ইসকনের শঙ্খভবনে যাবেন অমিত শাহ। এরপর যাবেন ইসকনের পদ্মভবনে। সাধু-সন্তদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করবেন বলে খবর।
বৈঠক শেষ করে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের জন্মতিথি উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের আরতিতেও তাঁর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদিয়ার মায়াপুরে অবস্থিত ইসকনের সদর দপ্তরে এই কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
মার্চের শুরুতেই দোল উৎসব। সেই উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত মায়াপুরে সমবেত হতে শুরু করেছেন। ভক্তসমাগম ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহে অমিত শাহের মায়াপুর সফরকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ভোটের আগে ধর্মীয় মঞ্চ থেকে বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মায়াপুর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতাও তুঙ্গে। নদিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। মন্দির চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে খবর। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। সম্ভাব্য ভিড় ও ভিআইপি নিরাপত্তা মাথায় রেখে একাধিক স্তরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।