জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাসে মিলবে ১৫০০ টাকা। রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পে নাম লেখাতে গতকাল থেকে ক্যাম্পে ক্যাম্পে যুবকদের ঢল নেমেছে। মাধ্যমিক যোগ্যতাতেই মিলবে ওই প্রকল্পের সুযোগ। ফর্ম জমা নেওয়া পর থেকেই দেখা মিলছে অদ্ভূত সব দৃশ্যের। গতকাল চুঁচুড়ায় যুবসাথী প্রকল্পের লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিতে দেখা গিয়েছিল এক গবেষক যুবককে। আজ দ্বিতীয় দিনে দেখা গেল আইআইটিতে পড়ুয়া এক ছাত্রের জন্য ফর্ম তুললেন বৃদ্ধ বাবা।
চুঁচুড়া রথতলা এলাকার বাসিন্দা অলোক মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অর্ণব। ব্যান্ডেল ডন বস্কো স্কুল থেকে পড়াশোনা করে মগড়ার এক বেসরকারি কলেজ থেকে বি টেক পাশ করেন। এরপর গুয়াহাটি আইআইটিতে এম টেক করছেন। অলোকবাবু একটি আধা সরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন।
সোমবার সদর মহকুমা শাসক দফতরের সামনে যুবসাথী রেজিস্ট্রেশান শিবির থেকে ছেলের জন্য ফর্ম সংগ্রহ করতে আসেন। তিনি বলেন,ছেলেকে ফোন করেছিলাম যুবসাথী প্রকল্পের কথা বললাম। ওর তো পড়াশোনা ক্ষেত্রে কিছু খরচাও হয়। তাই প্রকল্পের সহযোগিতা যদি পাওয়া যায় তাই ফর্ম তুললাম। ছেলের এম টেক শেষ হবে ২০২৭ সালে। চাকরির পরীক্ষার জন্য কাজে লাগবে এই যুবসাথী।
চুঁচুড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ঝন্টু বিশ্বাস বলেন, যুবসাথী প্রকল্পের জন্য উচ্চ শিক্ষা বা কম শিক্ষিত বিষয় নয়। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাস বলা হয়েছে। যাতে পড়াশোনায় সুবিধা হয় চাকরির পরীক্ষার জন্য তাদের এই প্রকল্পটা কাজে লাগবে। এটা যুগান্তকারী একটা প্রকল্প। দলমত নির্বিশেষে সবাই পাবে। যারা উচ্চশিক্ষিত হচ্ছে তারা যতক্ষণ না চাকরি পাচ্ছে তাদের জন্য এই প্রকল্প খুবই কাজে লাগবে।
উল্লেখ্য, এখনওপর্যন্ত মোট ৮ লাখ ফর্ম জমা পড়েছে। ক্যাম্প ওই ফর্ম তোলার জন্য প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের মাধ্যমিক পাশ করা যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধে পাবেন। বয়সের সময়সীমা ২১-৪০ বছর। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। টাকা পাওয়া যাবে মোট ৫ বছর। আজ বেলা বারোটা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদে। এর পরেই রয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর।