রণজয় সিংহ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সব দলই যখন নিজেদের পায়ের তলায় জমি শক্ত করতে ব্যস্ত,তখনই 'বড় জয়' হাসিল করে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে ঘর ভরল শাসকদল।
বড় উলট পুরাণ মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভাতে। সদ্য মিমে যোগ দেওয়া ওয়াসিম আক্রাম-সহ একাধিক কর্মী তৃণমূলে যোগ দিলেন তৃণমূলে।
মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের হাত ধরে আবার ভোটের আগেই চমক তৃণমূলে। 'আবার জিতবে বাংলা' এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবং ১৫ বছরের রাজ্যের উন্নয়নের পাঁচালীকে হাতিয়ার করে চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গড়ার লক্ষ্যে প্রচার শুরু করা হয় বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে। শনিবার দুপুরে কর্মী সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান মঞ্চেই মিম পার্টি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন ওয়াসিম আক্রাম-সহ একাধিক কর্মী। ওয়াসিম আক্রামের হাতে দলীয় ঝান্ডা তুলে দেন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি। এস আই আর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালো কোট পড়ে সুপ্রিম কোর্টের সাওয়াল করেছিলেন। তার এই লড়াই দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে জানান।
এর আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এক নম্বর ব্লকের লালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। লালপুর অঞ্চলের ২৬ নম্বর বুথে তৃণমূলের একটি কর্মসূচি চলছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ছবি প্রজেক্টরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। সেই কর্মসূচি সভা চলাকালীন-ই CPIM ও ISF ছেড়ে ২০০ জনেরও বেশি কর্মী, সমর্থক ও নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেন।
এছাড়াও, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপিতে ভাঙন ধরেছে কিছুদিন আগেই। শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে এসে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে পদ্ম প্রতীক ছেড়ে জোড়া ফুলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল। নিজের দলবদলের জন্য তিনি দায়ী করেছেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডাকে। পাশাপাশি, আদি বিজেপি নেতাদের ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ময়না এলাকার অর্থনীতি নির্ভর করে মাছচাষের উপর। সেই মাছচাষের উন্নয়নের জন্য বিজেপি বা স্থানীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বিধায়ক অশোক কোনও পদক্ষেপ করতে পারেননি বলেই অভিযোগ করেছেন চন্দন। তাই উন্নয়নে শামিল হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এই ভাঙা-গড়ার খেলা নতুন নয়। প্রতিবারই ভোটের আগে এই ভাঙা-গড়া, দলবদলের খেলা চলতে থাকে। এবারও রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, এই দল ভাঙা-গড়ার খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও শাসক শিবিরে যোগদান, কোথাও বিরোধী শিবিরে যোগদান। চলছে বিপক্ষকে মাত করতে সব পক্ষের ঘুঁটি সাজানোর পালা।