• গ্রামে বাঘ ঢোকা ঠেকাতে প্রযুক্তি হাতিয়ার
    আনন্দবাজার | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুন্দরবনে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে বাঘ ঢুকে পড়ার কথা আকছারই শোনা যায়। তা নিয়ে তৈরি হয় পশু-মানুষের সংঘাতও। এই পরিস্থিতি সামলাতে এ বার প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে নতুন পথের সন্ধান করছে বন দফতর। রাজ্য বন দফতর ও ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া-র (ডব্লিউটিআই) যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ধরনের যন্ত্র বসানো হয়েছে। এই যন্ত্রগুলির একটি নির্দিষ্ট চৌহদ্দিতে বাঘ বা অন্য কোনও বন্যপ্রাণী আসলেই তা একদিকে যেমন সতর্কবার্তা দেবে, তেমনই যন্ত্র থেকে বেরনো আলো ও শব্দ ওই প্রাণীগুলিকেও ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেবে।

    বন দফতর সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের অন্তর্গত সুন্দরবনের রায়দিঘি রেঞ্জের হেড়োভাঙা-৯ নম্বর কম্পার্টমেন্টে চারটি এমন যন্ত্র বসানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে বাকি এলাকাগুলিতেও এই যন্ত্র বসানো হতে পারে। ডব্লিউটিআই-এর কনফ্লিক্ট মিটিগেশন ডিভিশনের প্রধান অভিষেক ঘোষাল বলছেন, ‘‘গত বছর এই যন্ত্রগুলি উত্তরপ্রদেশের পিলভিট এবং কাতেরনিয়াঘাটের জঙ্গলে বসানো হয়েছিল। এই প্রথম সুন্দরবনে বসানো হল। ম্যানগ্রোভ অরণ্যে এই যন্ত্র কার্যকরী হবে কি না, তা এ বার বোঝা যাবে।’’ বন দফতর সূত্রের দাবি, হেড়োভাঙা-৯ নম্বর কম্পার্টমেন্ট থেকে বাঘ বেরোনোর ঘটনা ঘটেছে। তাই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সেখানেই ওই যন্ত্রবসানো হয়েছে।

    সূত্রের খবর, এই যন্ত্রগুলির পোশাকি নাম ‘অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রেপেল্যান্ট সিস্টেম’ (অ্যানিডার্স)। সৌরশক্তিতে চলা এই যন্ত্রগুলিতে সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা থাকে এবং ১৮০ ডিগ্রি কোণে তা ২৫-৩০ মিটার পর্যন্ত নজর রাখে। ওই চৌহদ্দিতে কোনও প্রাণীর চলাফেরা সেন্সরযুক্ত ক্যামেরায় ধরা পড়লেই আলো জ্বালিয়ে এবং উচ্চ কম্পাঙ্কের (হাই-ফ্রিকোয়েন্সি) শব্দ তৈরি করে। তাতে বন্যপ্রাণীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু এই শব্দ ও আলোয় তাদের কোনও মারাত্মক ক্ষতি হয় না। বন দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়লে যেমন মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তেমনই বাঘেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবস্থা সংঘাত এড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকরী।’’

    ডব্লিউটিআই-এর সুন্দরবন প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার সম্রাট পাল বলেন, ‘‘এই যন্ত্রগুলির সাহায্যে বন্যপ্রাণীদের চলাচলও বোঝা যাবে। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে কোন পথে তারা লোকালয়ে ঢুকছে তা-ও বোঝা যাবে। সেই তথ্য দিয়ে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানো এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের কাজেও সুবিধা হবে।’’ সূত্রের খবর, আগামী দিনে কুলতলি ব্লকের গুড়গুড়িয়া, নগেনাবাদ ও অম্বিকানগরেও এই যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা আছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)