• বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে দুর্গন্ধের নালিশ
    আনন্দবাজার | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পুরসভার অপচনশীল আবর্জনা ফেলা হয় বৈদ্যবাটী শহরে দিল্লি রোডের ধারে আঞ্চলিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে। ইদানীং সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ আশপাশের বাসিন্দারা।

    বৈদ্যবাটীর একাধিক ওয়ার্ড এবং পিয়ারাপুর পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষোভ, ওই প্রকল্পের বর্জ্য়ের দুর্গন্ধে তাঁরা অতিষ্ঠ। প্রকল্পের পাশেই ঘুঙির খাল। ওই খালের পাড়ে প্রকল্পের আবর্জনার স্তূপ। আবর্জনা জলেও মিশছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্লাস্টিক বর্জ্যের চাপে পাঁচিল ভেঙে বা টপকে এই পরিস্থিতি। জল দূষিত হচ্ছে। এই খাল গঙ্গায় মিশেছে। যদিও এই অব্যবস্থা নিয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা পুর-প্রশাসনের হেলদোল নেই। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এমন চললে খাল বন্ধ হয়ে যাবে।

    পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আগে প্রকল্পটি দেখাশোনা করত পুরসভা। বর্তমানে রাজ্য পুর উন্নয়ন সংস্থা (সুডা) সেই দায়িত্ব একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়েছে। পুরপ্রধান পিন্টু মাহাতো বলেন, ‘‘দিন কয়েক আগে ওখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এটা ঠিক যে, স্থানীয়দের তরফে আগে এ ধরনের দুর্গন্ধের অভিযোগ আসত না। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুডাকে বিষয়টি জানাব।’’ হুগলি জেলা সেচ দফতরের এগ্‌জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গৌতম অধিকারী বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা ছিল না। দ্রুত সরেজমিনে অনুসন্ধান করে সুডাকে জানানো হবে। যাতে ঘুঙির খালের মাধ্যমে গঙ্গা দূষিত না হয়।’’

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে হুগলির আটটি পুরসভা থেকে (উত্তরপাড়া, ডানকুনি, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, ভদ্রেশ্বর ও চন্দননগর) ৮০-১০০ টন বর্জ্য রোজ এখানে আসে। হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড় থেকে আসে দৈনিক ১৮০-২০০ টন। শুধুমাত্র অপচনশীল বর্জ্য এখানে পাঠানোর কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই মিশ্র আবর্জনা আসছে। দুর্গন্ধ ছড়ায় মূলত পচনশীল আবর্জনা থেকে। তবে ওই আবর্জনাও এখানে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, দিল্লি রোডের অন্য দিকে পচনশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পুরসভার নিজস্ব যে ইউনিট রয়েছে, সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কোনও অভিযোগ নেই।

    আঞ্চলিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সূত্রের দাবি, বছর দু’য়েক তারা এই দায়িত্বে রয়েছে। প্রকল্পের এক কর্তা কুণাল দত্ত বলেন, ‘‘এখানে বর্জ্যের চাপ প্রচুর। পাঁচিল টপকে যা সেচ দফতরের জায়গায় পড়েছে, সেটা প্রক্রিয়াকরণ হওয়া প্লাস্টিক, নোংরা বর্জ্য নয়। খালে প্লাস্টিক পড়ে গঙ্গায় যাতে না যায়, দ্রুত সেই ব্যবস্থা করা হবে।’’ তাঁর দাবি, দুর্গন্ধ রোধে সপ্তাহে এক দিন ড্রোনের সাহায্যে পাইন তেল ছেটানো হয়।

    তাতেও তো গন্ধের অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী! দুর্গন্ধ পুরোপুরি আটকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের কাছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)