জি ২৪ ডিজিটাল ব্য়ুরো: পুলিসের পরকীয়া! ভ্য়ালেন্টাইন ডে-তে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে একেবারে হাতেনাতে পাকড়াও করলেন স্বামী। রাস্তাতেই দু'জনের বিয়েও দিয়ে দিলেন! ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে।
জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাড়ি কাঁথি থানার আঁউরাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বছর সাতেক আগে বিয়ে হয়। ছেলের বয়স এখন ৬ বছর। স্বামী ছোটখাটো ব্যবসা করেন। বিয়ের পর ২০১৬ সালে পুলিসে চাকরি পান তিনি। এরপর চাকরি সুবিধার জন্যই স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে কাঁথি শহরেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন ওই তরুণী। সমস্য়ার সুত্রপাত এক বছর আগে।
অভিযোগ, স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন মহিলা পুলিসকর্মী। প্রেমিক উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে বিদেশে ছিলেন। সোশ্য়াল মিডিয়া দু'জনের। সেই আলাপ থেকে প্রেম। ঘনিষ্ঠতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, গত তিন মাস ধরে কাঁথি শহরের দীঘায় বাইপাস এলাকা ঘরভাড়া দিয়ে থাকতেও শুরু করেন। মাঝেমধ্য়েই সেখানে যেতেন ওই মহিলা পুলিসকর্মী। তাঁকে নাকি স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিক!
ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে খবর পান ওই পুলিসকর্মীর স্বামী। এরপর একটা হেস্থনেস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শনিবার, ভ্য়ালেন্টাইন ডে দুপুরে যখন জাতীয় সড়কে প্রেমিকের হাত ধরে হাঁটছিলেন ওই মহিলা পুলিসকর্মী, তখনই সেখানে হাজির হন তাঁর স্বামী। হাতে রজনীগন্ধার মালা আর সিঁদুর কৌটা। রাস্তাতেই রীতিমতো মালাবদল ও সিঁদুর দান করিয়ে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দেন তিনি। এরপর দু'জনকে নিয়ে সোজা কাঁথি থানায়। পুলিসকে গোটা ঘটনা জানিয়েছে ফিরে যান নিজের বাড়িতে।
এদিকে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা পুলিসকর্মী। তাঁর দাবি, স্বামী প্রায়শই মারধর করতেন। অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেত না ওই দম্পতির ৬ বছরের ছেলেও। স্বামীর প্রশ্ন, 'আমি অত্যাচার করলে এতদিন অভিযোগ করেনি কেন'? তিনি বলেন, 'চাকরি করা সত্ত্বেও বাড়িতে টাকা দিত না। আমার রোজগারের টাকায় বাড়ি ভাড়া থেকে অন্যান্য খরচ ও ছেলের পড়াশোনা খরচ চালাতাম। রাতে বাড়িতে আসত। আলাদা বিছানায় ঘুমাত। সকাল হলেই বেরিয়ে যেত। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওরা প্রায়ই একসঙ্গে সময় কাটাত'।