• কোনও নেতা ধরাধরির দরকার নেই! চুপচাপ যুবসাথীর অনলাইন আবেদন করুন এই ভাবেই, স্টেপ বাই স্টেপ গাইড এখানেই...
    ২৪ ঘন্টা | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্যের কর্মপ্রার্থী যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এতদিন এই প্রকল্পের জন্য সরকারি দপ্তরে বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইন পোর্টালে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বাড়িতে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদনের প্রাথমিক যোগ্যতা ও কঠোর বয়সসীমা

    যুবসাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকার কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। আবেদনের ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বয়স।

    বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ০১/০৪/২০২৬ তারিখের হিসেবে ন্যূনতম ২১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

    প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ: এবারের নতুন পোর্টালে একটি বিশেষ ফিচার যোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী যখন তাঁর জন্মতারিখ ইনপুট করবেন, সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatic) বয়স গণনা করে নেবে। যদি বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে না থাকে, তবে স্ক্রিনে লাল রঙের সতর্কবার্তা (Error Message) দেখাবে এবং আবেদনটি সেখানেই বাতিল হয়ে যাবে।

    ডিজিটাল নথিপত্র: ফরম্যাট ও সাইজ সংক্রান্ত নিয়ম

    অনলাইনে সফলভাবে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র আগে থেকেই স্ক্যান করে ডিজিটাল ফরম্যাটে রাখা বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী নথির মাপ নিম্নরূপ হওয়া প্রয়োজন:

    ১. পিডিএফ (PDF) ফরম্যাট (সর্বোচ্চ ২ এমবি): মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ হিসেবে), শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট বা সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুকের প্রথম পাতা এবং যদি সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত হন তবে কাস্ট সার্টিফিকেট।

    ২. জেপিজি (JPG/PNG) ফরম্যাট (সর্বোচ্চ ১ এমবি): আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং পরিষ্কারভাবে করা স্বাক্ষর।

    ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি

    প্রক্রিয়াটি সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল (https://apas.wb.gov.in/) চালু করেছে। আবেদনের ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হল:

    ১. রেজিস্ট্রেশন ও ওটিপি ভেরিফিকেশন: আবেদনকারীকে প্রথমে পোর্টালে গিয়ে ‘Apply Online’ ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। সেখানে নিজের সচল মোবাইল নম্বর এবং ক্যাপচা কোড দিলেই একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি ভেরিফাই করার পরেই মূল আবেদনপত্র বা অ্যাপ্লিকেশন ফর্মটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

    ২. ব্যক্তিগত তথ্যের নির্ভুলতা: ফর্মে নাম, লিঙ্গ এবং জাতিগত তথ্য দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে মাধ্যমিকের নথিতে নামের বানান যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবেই লিখতে হবে। বিবাহিত মহিলারাও তাঁদের মাধ্যমিকের নথির নামই ব্যবহার করবেন যাতে ভেরিফিকেশনে কোনো সমস্যা না হয়। এছাড়া বাবা, মা এবং বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ করতে হবে।

    ৩. ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ: আবেদনকারীকে তাঁর সম্পূর্ণ ঠিকানা (বাড়ি নম্বর, গ্রাম, ব্লক/মিউনিসিপ্যালিটি, পিনকোড) ড্রপডাউন মেনু থেকে নির্ভুলভাবে নির্বাচন করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে শেষ পাস করা পরীক্ষার সাল, বোর্ডের নাম এবং রোল নম্বর দিতে হবে।

    ৪. পেশা নির্বাচন (সতর্কতা): ফর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘Present Occupation’ বা বর্তমান পেশা। এখানে সরাসরি ‘বেকার’ বা ‘Not Employed’ না লেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আপনি যদি পড়াশোনা চালিয়ে যান তবে ‘Student’ এবং যদি গৃহশিক্ষকতা বা ছোটখাটো কাজ করেন তবে ‘Self Employed’ অপশনটি বেছে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে।

    ৫. ব্যাঙ্ক ডিটেইলস ও ফাইনাল সাবমিশন: যেহেতু প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে যাবে, তাই আধার লিংক করা ব্যাঙ্কের আইএফএসসি (IFSC) কোড এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর দু’বার মিলিয়ে দেখে নেওয়া জরুরি। শেষে অন্য কোনো সরকারি ভাতা (যেমন কন্যাশ্রী বা ঐক্যশ্রী) পাচ্ছেন কি না তা জানিয়ে সমস্ত ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। ‘Final Submit’ বাটনে ক্লিক করার পর একটি Application ID জেনারেট হবে।

    কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?

    প্রশাসনের মতে, এই অনলাইন ব্যবস্থার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা সরাসরি সুবিধা পাবেন। একবার আবেদন সফল হলে প্রার্থীরা বাড়িতে বসেই মোবাইলে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ইন্টারভিউ বা ভেরিফিকেশনের জন্য এই ‘Application ID’ নম্বরটি অত্যন্ত জরুরি, তাই এর প্রিন্ট আউট বা স্ক্রিনশট রাখা আবশ্যক।

    রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ২০২৬ সালে বাংলার তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আবেদন করলে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারবেন।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)