• কাশির ওষুধ রাখা নিয়ে রাজ্যের বিধি নেই, বিপুল সিরাপ মজুত রাখলেও জামিন দোকানদারের
    এই সময় | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ মজুতের অভিযোগে ধৃত এক ওষুধের দোকানের মালিকের জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জামিন মঞ্জুর করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণে বলেন, একজন বিক্রেতা কত পরিমাণ কাশির সিরাপ রাখতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করা কোনও বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার আদালতে পেশ করতে পারেনি সরকার। ওই গাইডলাইন থাকলে পাইকারি বা খুচরো বিক্রেতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কাফ সিরাপ মজুত করা থেকে বিরত রাখা যায়।

    আদালতের আরও বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশে কোডিন-যুক্ত কাফ সিরাপ মজুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দপ্তর নির্দেশ জারি করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্যে ১০০ মিলিগ্রাম করে ১০০০ বোতল এবং খুচরো বিক্রেতাদের জন্যে ১০০ মিলিগ্রাম করে ১০০ বোতল পর্যন্ত মজুতের সীমা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু এ রাজ্যে এ ধরনের কোনও সীমা নির্ধারণের নথি রাজ্যের আইনজীবী আদালতে দেখাতে পারেননি বলে বিচারপতি রায়ে উল্লেখ করেন।

    গত এপ্রিলে হাওড়ার একটি ওষুধের দোকান থেকে ১৫৮.৮ লিটার কোডিন-মিশ্রিত ফেনসিডিল কাফ সিরাপ এবং ট্রামাডল মিশ্রিত ক্যাপসুলের দু’টি প্যাকেট উদ্ধার হয়। নথিপত্র চাওয়া হলে দোকানদার দেখাতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়।

    জামিন মঞ্জুর করতে গিয়ে বিচারপতি বলেন, রাজ্য কেবল নিষিদ্ধ সামগ্রী বাজেয়াপ্তের একটি বিষয় তুলে ধরতে পেরেছে, কিন্তু উদ্ধার হওয়া পদার্থগুলি চিকিৎসা বা বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে রাখা ছিল কি না—এ বিষয়েও কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। এনডিপিএস আইনের বিধি অনুযায়ী, লাইসেন্সের আড়ালে অবৈধ কার্যকলাপ চললে আইন প্রয়োগে বাধা নেই। তবে সে ক্ষেত্রে বেআইনি সংগ্রহ, বিক্রি, হিসাবখাতায় এন্ট্রি না–থাকা বা রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির মতো উপাদান দেখাতে হবে বলে আদালত মনে করিয়ে দেয়।

  • Link to this news (এই সময়)