• প্রথম চালু হতে চলেছে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল!
    আজকাল | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলায় বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে চালু হতে চলেছে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য প্রথম কোনও হাসপাতাল। বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সামশেরগঞ্জের অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র চত্বরে চালু হয়ে যাচ্ছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিড়ি শ্রমিক হাসপাতাল। 

    মুর্শিদাবাদ জেলায় বিড়ি শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১২ -১৩ লক্ষ লোক জড়িয়ে রয়েছেন। তার মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের বাস জঙ্গিপুর মহকুমায়। তামাক পাতা-সহ বিভিন্ন রকমের জিনিস থেকে ধোঁয়া ,ধুলো ও বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যে কাজ করার ফলে বিড়ি শ্রমিকদের মধ্যে ফুসফুসের রোগ, যক্ষা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের বিভিন্ন রোগ খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হল সামশেরগঞ্জে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য নির্মিত এই বিশেষ হাসপাতাল। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এই হাসপাতালের জন্য ১৪ জন চিকিৎসককে নিয়োগ করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জবাসী তথা জঙ্গিপুরের বাসিন্দা গর্ভবতী মহিলাদের উন্নততর চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে অনুপনগরে তৈরি হয়েছে ৩০০ শয্যার 'মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব'। মহিলাদের এই হাসপাতালের ঠিক উল্টোদিকেই তৈরি হয়েছে বিড়ি শ্রমিকদের হাসপাতাল। 

    গঙ্গা নদীর ভাঙন কবলিত সামশেরগঞ্জে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য অত্যাধুনিক এই হাসপাতাল তৈরি হয়ে যাওয়ায়  গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগুলির জন্য এখানকার মানুষদের আর জঙ্গিপুর হাসপাতাল বা বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে যেতে হবে না। 

    সূত্রের খবর, বিড়ি শ্রমিকদের হাসপাতালে ১৫০ শয্যার পরিকাঠামো থাকলেও আপাতত ১০০টি শয্যা নিয়ে এই হাসপাতাল পথ চলা শুরু করবে। পরবর্তীকালে পরিকাঠামো এবং ডাক্তারদের সংখ্যা বাড়লে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। 

    বিড়ি শ্রমিকদের এই হাসপাতালে জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই দু'জন অর্থপেডিক চিকিৎসক, দু'জন ইএনটি ,দু'জন চোখের চিকিৎসক, দু'জন বক্ষ রোগ বিশেষজ্ঞ-সহ আরও একাধিক চিকিৎসককে নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের পরিকাঠামোর জন্য ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উন্নত মানের এক্সরে মেশিন বসানো হয়েছে। বিড়ি  শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য ২৯টি আইসিইউ শয্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি হলে শ্রমিকরা প্যাথলজির সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন। 

    প্রসঙ্গত সামশেরগঞ্জের তারাপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে প্রায় ৬০ শয্যার একটি বিড়ি শ্রমিক হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার এই হাসপাতাল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ,ডাক্তার এবং কর্মী বরাদ্দ না করায় সেটি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই হাসপাতাল পুনরায় চালু করার জন্য বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের তরফ থেকে বহুবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে দরবার করা হয়েছে। গণস্বাক্ষর ,পথসভা এবং আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তারাপুর হাসপাতাল পুনরায় চালু করার দাবি জানানো হলেও  কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সেই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য সরকারই মুর্শিদাবাদের বিড়ি শ্রমিকদের জন্য ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গিয়েছে। এই হাসপাতাল চালু হয়ে গেলে সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান , ফরাক্কা, সুতি-সহ একাধিক এলাকার লক্ষ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক সুচিকিৎসা পাবেন।
  • Link to this news (আজকাল)