উত্তরপ্রদেশের মতো বিহারেও খোলা জায়গায় মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে নীতীশ কুমারের সরকার। নিয়ম না মানলে মোটা টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনহা। বিহারের নগর উন্নয়ন ও আবাস বিভাগ মঙ্গলবার এই বিষয়ে নির্দেশিকাও জারি করেছে। যা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, বিজেপি আমজনতার খাওয়া-পরার উপর রাশ টানার চেষ্টা করছে বলে বারবার অভিযোগের সুর শোনা গিয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বাঙালির প্রিয় মাছ-ভাতের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের খাদ্যাভ্যাসের বহু তফাত রয়েছে। ভিনরাজ্যের নিরামিষ খাওয়াদাওয়ার সংস্কৃতি এরাজ্যেও লাগু করতে চায় বিজেপি, এই অভিযোগে বারবার সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যআয়। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে ফের রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, 'বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি হবে না। যে বিজেপির জন্য এত লড়াই করছেন, এখানে এলে তো মাছ-মাংস বন্ধ করে দেবে। সবাই কি শপিং মলে মাছ-মাংস বেচবে?আমাদের তো চাষিরা রাস্তায় বসে। স্কন্ধ কাটার রাজনীতি চলছে। এই রাজনীতিকে ধিক্কার জানাই।।'
এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়াএবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কমিশন ‘তুঘলকি’ পদ্ধতিতে কাজ করছে এবং ‘হিটলারি অত্যাচার’ চালানো হচ্ছে। ভোটের আগে ভোট করানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রেও নাকি একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিহারে ‘এসআইআর’ চলাকালীন যে নথিগুলি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়েছিল, বাংলায় সেগুলি কেন মানা হবে না— সেই প্রশ্নও তোলে। তাঁর দাবি, বিহারে যেখানে ১১টি পয়েন্ট ছিল, বাংলায় সেখানে ১৩টি করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির এক নেত্রী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছেন ভোটার তালিকা থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাদ পড়া নামের মধ্যে বহু বৈধ ভোটার রয়েছেন। গোটা পরিস্থিতিকে তিনি ‘থ্রেট কালচার’-এর উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। এইআরও-দের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ স্পষ্ট করা হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি কমিশনের তরফে ঘনঘন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একের পর এক বার্তা পাঠানো হচ্ছে এবং প্রত্যেকটিতে আলাদা নির্দেশ থাকায় তৈরি হচ্ছে ‘টোটাল কনফিউশন’।