• গাজিয়াবাদের বোনেদের পরিণতি টালিগঞ্জের কিশোরের, ভয়ংকর গেমের নেশায় শূন্য মায়ের কোল! হাহাকার...
    ২৪ ঘন্টা | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন ঘোষাল: মোবাইল গেমিংয়ে চরম আসক্তি। লেখাপড়ায় মন নেই। বাবামায়ের বকাবকি। অভিমানে আত্মঘাতী চারু মার্কেট থানা এলাকার সুলতান আলম রোডের ১৪ বছরের কিশোর। বঙ্গশ্রী কলোনীর বাড়িতে শোকে পাথর মা বাবা। 

    পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গশ্রী কলোনীর বাসিন্দা ওই কিশোর দীর্ঘ দিন ধরেই মোবাইল গেমিংয়ে চরমভাবে আসক্ত ছিল। এই আসক্তির কারণে পড়াশোনা থেকে তার মন সম্পূর্ণভাবে সরে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি হত। বাবা-মা বকাবকি করতেই চরম পদক্ষেপ নাবালকের। অভিমানে নিজের ঘরেই চরম পথ বেছে নেয় সে। গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    জানা যায়, নিজের বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তার মা প্রতিবেশীদের সাহায্যে তাকে দ্রুত নামিয়ে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পড়াশোনার বিষয় নিয়ে বাবা- মায়ের বকাবকির জেরে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

    চারু মার্কেট থানা ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিস খতিয়ে দেখছে ঠিক কোন গেমের নেশায় কিশোরটি বুঁদ হয়ে থাকত।

    সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে গাজিয়াবাদে কোরিয়ান মোবাইল গেমের আসক্তির কারণে নিজেদের বাস্তব বোধ হারিয়ে এরকমই চরম পরিণতি বা পথ বেছে নিয়েছিল ৩ কিশোরী বোন। ফ্ল্যাটের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয় তিন বোন। অনলাইন কোরিয়ান ‘লাভ গেম’-এর নেশায় আসক্ত হয়ে ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর বয়সী তিন বোন।

    জানা যায়, মৃত তিন বোন- বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২) সবসময় ছায়ার মতো একে অপরের সঙ্গে থাকত। তদন্তে নেমে মৃতদের ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিস। সেখানে একটি কান্নার ইমোজির নিচে লেখা ছিল, 'একটি বাস্তব জীবনের গল্প। এই ডায়েরিতে যা কিছু লেখা আছে সব পড়ে নিও, কারণ এসবই সত্যি। এখনই পড়ো! আমি সত্যিই দুঃখিত, সরি পাপা।' শুধু তাই নয়, ঘরের মেঝেতে পরিবারের সদস্যদের ছবি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তদন্তকারীরা। পুলিস একটি পকেট ডায়েরিও উদ্ধার করেছে, যেখানে ‘হিংলিশ’ (হিন্দি ও ইংরেজির মিশ্রণ) ভাষায় আট পাতার একটি দীর্ঘ নোট লেখা ছিল।

    সেখানে একটি বড় কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা, 'সরি পাপা, আমরা কোরিয়া ছেড়ে যেতে পারি না। কোরিয়া আমাদের জীবন। তুমি আমাদের এই গেম ছাড়াতে পারবে না। আমরা আমাদের জীবন শেষ করে দিচ্ছি। ' ডায়েরিতে তারা আরও লিখেছে, 'এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে সব সত্যি। আমাদের ৫০টি টাস্ক দেওয়া হয়েছিল, গতকাল ছিল শেষ টাস্ক। আমাদের কোনও ধারণা ছিল না।'

    অতীতেও পোকেমন নামের এরকমই একটি ভার্চুয়াল গেম অনেকের হুঁশ উড়িয়ে তাদের বাস্তব বুদ্ধি লোপাট করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সেই জের কাটতে না কাটতেই ফের দেশের নানা প্রান্তে শিশু কিশোর মনে গেমিংয়ের আসক্তির মারাত্মক পরিণতি চলে এল চর্চার তুঙ্গে।

    আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ... 

    iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১

    কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭

    ২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)