প্রবীর চক্রবর্তী: রাজ্য-রাজনীতিতে অন্যতম বড় খবর! মোড় ঘোরানো খবর! সোমবারের সকালে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার হট টপিক ছিল রাজ্য কমিটি তথা সিপিআইএম পার্টি থেকেই প্রতীক উর রহমানের ইস্তফা! এবার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরও বড় খবর! আরও বড় ব্রেকিং নিউজ! কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে ঘাসফুলে প্রতীক উর? তৃণমূলে যোগদান করতে চলেছেন প্রতীক উর রহমান?
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস-ই একমাত্র হাতিয়ার? এমনটাই কি মনে করছে প্রতিক উর? রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতীক উরকে নিয়ে জোর জল্পনা। ডায়মন্ড হারবার আসন থেকে বামেদের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রতীক উর, দলত্যাগের পর কি তাহলে সত্যিই তৃণমূলে যোগদান করছেন? এমনকি তৃণমূলে যোগদান করে প্রার্থীও হচ্ছেন? দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও একটি আসন থেকে ঘাসফুল প্রতীকে দাঁড়াতে পারেন প্রতীক উর রহমান? প্রার্থী হতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে? এমনই হাজারো প্রশ্ন, হাজারো জল্পনা এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে CPIM-এর বড় ধাক্কা!ভোটের মুখে আচমকাই চিঠি দিয়ে রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমানের! সেইসঙ্গে দল সিপিএম ছাড়ার ঘোষণাও করেন। প্রতীক উরের লেখা সেই চিঠি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চিঠিতে লেখা, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমি পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা এবং কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তিনি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারার কারণে তাঁকে মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে, আর সেই কারণেই তিনি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব-সহ পার্টির প্রাথমিক সহস্য পদ থেকেও অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেন প্রতীক উর।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই দলের এক তরুণ নেতার সঙ্গে প্রতীক উরের মতানৈক্যের খবর সামনে এসেছিল। সেইসময় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ এবার সেই প্রতীক উর-ই কি তৃণমূলে? উঠছে প্রশ্ন। জোরদার হচ্ছে জল্পনা। উল্লেখ্য, প্রতীক উর রহমান ছিলেন বাম তরুণ ব্রিগেডের এক উজ্জ্বল মুখ। একুশের বিধানসভা নির্বাচন এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছিলেন প্রতীক উর। জিততে না পারলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব সবার নজর কেড়েছিল। এই লড়াকু মনোভাবের জন্যই জনপ্রিয় প্রতীক উর। এবার ছাব্বিশের ভোটেও প্রতীক উরকেই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর জোরালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আচমকা দল ও পার্টির রাজ্য কমিটি থেকে প্রতীক উরের ইস্তফা সব পরিকল্পনাকেই বিশ বাঁও জলে পাঠিয়ে দিয়েছে। উলটে তাঁর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে জল্পনা সবকিছুর উপর প্রশ্নচিহ্ন ফেলে দিয়েছে।
যদিও প্রতীক উরের দল ছাড়ার খবর সামনে আসতেই বর্ষীয়ান বাম তথা সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, প্রতীক উরের সঙ্গে ফোনে কথা বলব। আলাপ আলোচনার জায়গা খোলা আছে। ইয়ং জেনারেশন পার্টির অ্যাসেট। কমবয়সী ছোট ছেলেদের আমরা ভালোবাসি। এটা পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয়। সিপিএমের সাবজেক্ট সিপিএম যথেষ্ট বোঝে। অন্য কারও হেল্প লাগবে না।
ওদিকে প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগদান জল্পনা নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসে আসবে কিনা জানি না। আর বাকিটা দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে প্রতীক উরের মত ছেলেরা কিছু বায়োলজিক্যাল ফেরেববাজের জন্য ওই দলে কাজ করতে পারছিল না। প্রতীক উর এমন একটি ছেলে যে সংগঠনের কাজ করতো। প্রকৃত মার্কসবাদী। তাকে যদি কেউ ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি ফ্রিতে দিত, তাও সে চড়ত না।"