• AI সব চাকরি খেয়ে নেবে? অবশেষে মুখ খুললেন মোদী, যুবসমাজকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের হাত যত লম্বা হচ্ছে, ততই আশঙ্কা বাড়ছে চাকরিজীবীদের। একাধিক সেক্টরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক ছাঁটাই। তা হলে কি শেষের সেই দিন ভয়ঙ্কর? AI কি সব চাকরি খেয়ে নেবে? দিল্লির এআই ইন্ডিয়া সামিট শুরুর আগে মঙ্গলবার ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বীকার করে নিলেন, ‘হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ তবে সুযোগও রয়েছে বলেই মত তাঁর। মোদীর কথায়, ‘ভয়কে জয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, প্রস্তুতি।’

    AI-এর হাত ধরে চাকরির বাজারে যে একটা বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তার ইঙ্গিতও মিলছে। গেল গেল রব উঠে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বিশেষ করে আইটি সেক্টরে। মোদী বলছেন, ‘কিছু কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। আমাদের সবাইকেই বাজার এবং চাহিদার সঙ্গে মানানসই হয়ে উঠতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে যুবসমাজকে। অনেক চাকরির সুযোগও আসবে।’ এটাই ভারতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মত তাঁর।

    AI-কে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। একটা সময়ে লাঙল দিয়ে চাষ হতো। তার পরে ট্রাক্টর এল। এটাও প্রযুক্তির রূপান্তর বলেই মনে করেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘ইতিহাস সাক্ষী, প্রযুক্তি সব সময়ে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করেছে।’ AI নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এটাকে সমস্যা হিসেবে দেখছি না। বরং বর্তমানের জরুরি কাজ মনে করছি। এই কাজ করতেই হবে।’ AI জমানাকে তিনি অগ্রগতির যুগ হিসেবেই দেখছেন।

    শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে ভারত আটকে থাকবে না বলেও জানিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘আমরা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করব। এটাই আত্মনির্ভর ভারতের ভিশন।’ বিশ্বের তিন AI সুপারপাওয়ারের মধ্যে ভারতকে দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক ভাষায় কোটি কোটি মানুষ আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। কোটি কোটি ডলারের স্টার্টআপ তৈরি হবে। প্রচুর মানুষ চাকরি পাবেন।’

    কয়েকটি ক্ষেত্রে AI সাধারণ চাকরিজীবীদের সঙ্গে টক্কর নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের হাতেই থাকবে বলেই মনে করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘শেষ কথা মানুষই বলবে। AI আমাদের আরও ক্ষমতা দেবে। নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবন যে একসঙ্গে সম্ভব, সেটা ভারত দেখাচ্ছে।’ তবে ডিজিটাল প্রতারণা, ডিপফেক-সহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে AI-এর ব্যবহারের উদ্বেগ রয়েছে। মোদীর কথায়, ‘প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, আমাদের দায়িত্ব তত বাড়বে।’ ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস ও ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স নিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, ‘তিন ঘণ্টার মধ্যে আপত্তিকর বা এআই কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার জন্য আইন লাগু হয়েছে। শিশু, মহিলা ও প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

  • Link to this news (এই সময়)