রাস্তা মেরামতির কাজ চলছিল। সেখানেই খেলায় মেতে উঠেছিল শিশুরা। পাশেই পড়েছিল লাইট ডিজেল অয়েল (LDO) ভর্তি একটি ড্রাম। আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে চার শিশু। তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী ভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার ঘটকপুকুর থেকে মধ্য খরগাছি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতির কাজ চলছে। এ দিন বিকেলে সেখানেই খেলছিল শিশুরা। রাস্তার পাশেই পড়েছিল প্রায় ২০০ লিটার লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) ভর্তি একটি ড্রাম। এটা দিয়েই পিচ ও অ্যাসফাল্টকে গলিয়ে দেওয়া হয়। তাতেই কোনও ভাবে আগুন লেগে যায় বলে অভিযোগ। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে ঝলসে যায় সামিউল মোল্লা, রায়হান মোল্লা, রিয়াজ হাসান মোল্লা ও সাদিকুল মোল্লা নামে চার শিশু। তাদের বয়স ৮ থেকে ১০ বছর।
ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে রিয়াজ, সাদকুলরা। তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অসহ্য জ্বালায় এক শিশু পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভাঙড় ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ। হাজির হন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লাও। কলকাতা পুলিশের বম্ব স্কোয়াড এবং ডগ স্কোয়াডও চলে আসে ঘটনাস্থলে।
স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের নলমুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিন জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের কলকাতার এমআর বাঙ্গুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাদিকুল মোল্লা নামে এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাস্তা মেরামতির কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙড় ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, ‘LDO ভর্তি ড্রামে কোনও ভাবে আগুন লেগে যায়। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।’