বাংলাদেশ থেকে মসজিদের টাকা এনেছেন হুমায়ুন, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর
আজ তক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলেনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। নন্দীগ্রামের বিধায়কের দাবি, মুর্শিদাবাদে যে বাবরি মসজিদ হচ্ছে তার ৫০ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচ্ছেন হুমায়ুন। এই মন্তব্য ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন হুমায়ুন। সেদিনও বহু লোকের জমায়েত হয়েছিল সেখানে। ভরতপুরের বিধায়ক এও জানিয়েছেন, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের পর তিনিই কিং মেকার হতে চলেছেন। তাঁর উপর নির্ভর করে থাকতে হবে বিজেপি বা তৃণমূলকে। বিধানসভা ভোটে জোট নিয়েও একাধিক দলের সঙ্গে কথা বলছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এরই মধ্যে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বেলডাঙায় নির্মীয়মাণ ওই মসজিদের অর্থ জোগাড় করতে হুমায়ুন গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে এক সপ্তাহ ছিলেন। তাঁর কথায়, 'বাংলাদেশে জামাত ঘনিষ্ঠ শক্তির সহায়তায় কবির মসজিদের ৫০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সংখ্যালঘুদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে বিরূপতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই তৃণমূলকে গোপনে সাহায্য করছেন তিনি।'
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, 'জামাত ও তৃণমূলের মধ্যে যোগসূত্র হলেন কবির। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পারেই মৌলবাদী শক্তি নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করছে। বাংলার হিন্দুদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।'
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। সেই দিনটিকেই বেছে নিয়ে গত ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হুমায়ুন।
যদিও শুভেন্দুর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, 'শুভেন্দু অধিকারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। সেজন্য এমন ভিত্তিহীন দাবি করছেন।' বাংলাদেশ সফরের কথা স্বীকার করে তাঁর দাবি, 'আমার সফরের সূচি খোলামেলা। ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টায় মালদা দিয়ে ভারতে ফিরেছি। চাইলে পুরো ভ্রমণতালিকা পাঠাতে পারি। বাংলাদেশ সফরের সঙ্গে বাবরি মসজিদের অর্থ জোগানের যোগসূত্র টানা অত্যন্ত নীচ মানসিকতার পরিচয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ স্বচ্ছভাবে অনুদান দিয়েছেন।'
তাহলে কেন গিয়েছিলেন বাংলাদেশে? হুমায়ুন জানান, বাংলাদেশ যাওয়ার লক্ষ্য ছিল ন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা।