সাপুরজিতে ডায়ারিয়া ঠেকাতে মেডিকেল ক্যাম্প, পাঠানো হল একাধিক জলের ট্যাঙ্ক
বর্তমান | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউনের সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসনে ডায়ারিয়ার প্রকোপের অভিযোগ উঠেছিল! গত কয়েকদিনে ডায়ারিয়ায় শতাধিক আবাসিক আক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন বাসিন্দারা। অবশেষে ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হল প্রশাসনিক তৎপরতা। আবাসিকদের জন্য মঙ্গলবার ওই আবাসনের ই ব্লকের ভিতরে মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হল। নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ), জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর, বিধাননগর মহকুমা প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজারহাট পঞ্চায়েতের যৌথ উদ্যোগে এই ক্যাম্প করা হয়। জরুরি পরিস্থিতির জন্য এদিন আবাসনে রাখা হয় দু’টি অ্যাম্বুলেন্স। একাধিক ট্যাংকে করে পরিস্রুত পানীয় জলও সরবরাহ করা হয়। কলকাতা পুরসভা থেকেও একাধিক জলের ট্যাংক পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঘটনার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরেই অনেকে বাইরে থেকে জল কিনে খাচ্ছিলেন।
সোমবার ই-ব্লকের আবাসিকরা আবাসনের ফেসিলিটি ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর পর ঘটনাটি সামনে আসে। আবাসিকদের অভিযোগ, তাঁরা গত কয়েকদিন ধরেই ডায়ারিয়ায় ভুগছেন। জল দূষিত হয়ে পড়ায় এই ঘটনা। বিক্ষোভের পর ওইদিনই আবাসনের আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার এবং ওভারহেড ট্যাংক সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। মেডিকেল ক্যাম্পে আসেন বহু মানুষ। তাঁদের সকলেরই একই লক্ষণ। পেটে যন্ত্রণা, বমি, পায়খানা এবং জ্বর। তবে, নতুন করে এদিন দুপুর পর্যন্ত কাউকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়নি। এদিন আবাসনে যান রাজারহাট–নিউটাউনের বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। তিনি পরিচ্ছন্নতার কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ঠিকমতো হয় কি না, তা নিয়ে আবাসিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। পানীয় জলের ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি তুলেছেন আবাসিকরা।
ইতিমধ্যেই আবাসনের জলের নমুনা সংগ্রহ করেছে এনকেডিএ কর্তৃপক্ষ। নমুনা পাঠানো হয়েছে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরে। প্রশাসনের দাবি, ওই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে সংক্রমণের কারণ জানা যাবে। সব আধিকারিকদের ডেকে নিউটাউনের এনকেডিএ ভবনে এ নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে এনকেডিএ’র চেয়ারম্যান শোভন চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন।