শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে স্নাতকোত্তর কোর্সের ভর্তি স্থগিত, নির্দেশ হাইকোর্টের
বর্তমান | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তিতে আপাতত অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। এমএনসিকে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র। প্রয়োজনে সারপ্রাইজ ভিজিটও করতে হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে স্নাতকোত্তর বা পিজি কোর্স চালুর অনুমতিকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ডের নজরে আসে এই অনিয়ম। ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের রিপোর্টে হাইকোর্টকে জানানো হয়, কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৬টি বিভাগে পিজি কোর্স চালুর আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় অধ্যাপক ও চিকিৎসক নেই। পাঁচটি বিভাগে পিজি কোর্স চালুর জন্য ন্যূনতম ১৫ জন অধ্যাপকের প্রয়োজন হলেও পরিদর্শনে মাত্র তিন জন চিকিৎসকের উপস্থিতির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, হাসপাতালের বেডে ‘সাজানো’ রোগী রাখা হয়েছিল, যাঁদের চিকিৎসার কোনও লিখিত নথি বা ইতিহাস পাওয়া যায়নি। বায়োমেট্রিক উপস্থিতি দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের হাসপাতালে বাস্তবে উপস্থিতি মেলেনি।
মঙ্গলবার শুনানিতে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের আইনজীবী সুনীত কুমার রায় গোটা ঘটনাকে বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, এমন একটি কলেজে কোর্স করতে অনুমতি দেওয়া যায় না। এটা সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক হবে। প্রথম থেকেই মিথ্যের ভিত্তিতে সবটা চলছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র মেডিকেল কলেজে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিজি কোর্স চালুর অনুমতি এবং কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনওভাবেই পিজি ভর্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে না বলে নির্দেশে জানিয়েছে আদালত।