• সব কেন্দ্রে পদ্মের ‘পরিবর্তন যাত্রা’, ব্রিগেডে সভা করবেন মোদী
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ভোটের আগে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করবে বিজেপি (BJP)। এরপর ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) জনসভা থেকে বিধানসভা ভোটের দামামা বাজাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, রাজনাথ সিং, দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, শিবরাজ সিংহ চৌহান, নীতিন গড়করি, স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েটরা রাজ্যে আসবেন।

    ২৯৪টি বিধানসভাকে ছুঁয়ে যেতে মোট ৯টি পৃথক পরিবর্তন যাত্রা করবে বঙ্গ বিজেপি। পয়লা মার্চ পাঁচটি এবং ২ মার্চ চারটি যাত্রা শুরু হয়ে ১০ মার্চ শেষ হবে। এরপরেই ব্রিগেড সমাবেশ হলেও তার তারিখ কয়েক দিন পরে ঘোষণা করবে পদ্ম শিবির।

    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিক সে সময়েই পরিবর্তন যাত্রা এবং ব্রিগেড সমাবেশ করে প্রচারের ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেবের উপস্থিতিতে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঙ্গলবার পরিবর্তন যাত্রার প্রস্তুতি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ৯টি যাত্রা কোন কোন রুট দিয়ে যাবে, কতগুলি বড় সমাবেশ হবে, কোন নেতা কী কী সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকের পরে শমীক সাংবাদিকদের বলেন, ‘১ তারিখ কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা, রায়দিঘি থেকে পাঁচটি যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসন, আমতা থেকে চারটি যাত্রা শুরু হবে। যে ৯ জন নেতা আসছেন তাঁরা প্রত্যেকেই এক একটি যাত্রার উদ্বোধনী জ‍নসভায় থাকবেন। দোলের জন্য ৩ এবং ৪ মার্চ বন্ধ থাকার পরে ৫ তারিখ থেকে ফের যাত্রা শুরু হয়ে ১০ তারিখ পর্যন্ত চলবে। ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।’ রাজ্যের সবক’টি বিধানসভা ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য সব মিলিয়ে ৫ হাজার কিলোমিটার যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। প্রতিটি যাত্রায় মোটামুটি ৬৪টি বড় সমাবেশ এবং তিনশোর বেশি ছোট সমাবেশ করবেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।

    কেন ভোটের মুখে এই যাত্রা করবে বিজেপি? শমীকের বক্তব্য, ‘তৃণমূল এখন জীবন্ত জীবাশ্ম। তৃণমূল সরকার চলে গিয়েছে। কোনও শক্তি ফেরাতে পারবে না। এই বিদায় মসৃণ করতে আমরা ৯টি যাত্রার আয়োজন করেছি।’

    বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার কর্মসূচি প্রসঙ্গে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘মোদী সরকার বাংলার ২ লক্ষ কোটি বকেয়া টাকা আটকে রেখে বঞ্চনা করছেন। বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন বলেছিলেন, দিতে পারেননি। কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকাও আসেনি। বিজেপির মানি–মাসল পাওয়ার রয়েছে, তাই এ সব যাত্রা করে ওরা চমক তৈরি করতে চাইছে। পাঁচ বছর আগেও বিজেপির তাবড় নেতারা এসেছিলেন, কিন্তু মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই আস্থা রেখেছে, এবারেও রাখবে।’

    অতীতেও রাজ্য জুড়ে বিজেপি এমন যাত্রার আয়োজন করলেও প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। শমীকের ব্যাখ্যা, ‘২০২১–এ আমরা সরকার গঠন করতে চাই বলেছিলাম। মানুষ বলেছিল, তোমরা আরও একটু লেখাপড়া করো। তাই আমাদের ৫ বছর বিরোধী দলে রেখেছে। এ বার পড়ে রেডি হয়ে যাচ্ছি। বারবার এক জিনিস হয় না।’ বিজেপির এই কর্মসূচি নিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজেপির যাত্রা মানেই মন্দির–মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করা। মানুষের জীবনজীবিকার লড়াইতে ওরা নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)