• বিপরীতমুখী বাতাসের টক্করে দিনে তাপ-ঘাম, রাতে ঠান্ডা
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: নতুন বছর শুরু হওয়ার ৪৮ দিন পর দ্বিতীয় বার শহরের রাতের তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছল। প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটেছিল ৩০ জানুয়ারি (১৭.৯ ডিগ্রি)। সেই হিসেবে সোমবার রাত (১৭.২) ছিল এ বছর এখনও পর্যন্ত শহরের উষ্ণতম রাত।

    কিন্তু নামে ‘উষ্ণতম’ হলেও শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি নীচেই। মঙ্গলবার সন্ধেয় আলিপুর হাওয়া অফিস দিনের শেষ রিপোর্ট প্রকাশ করার সময়ে দেখা গেল শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও (২৯.৪ ডিগ্রি) স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৬ ডিগ্রি নীচেই।

    এর পরেও দুপুরের দিকে বাড়ছে গরমের অনুভূতি এবং হালকা ঘামও। হাওয়া অফিসের রেকর্ড বলছে ২০২৫–এর কলকাতা বছরে প্রথম বার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাকে ৩০ ডিগ্রিতে উঠতে দেখেছিল ৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ পর্যন্ত শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রির ঘরেই আটকে রয়েছে।

    তবে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে থাকলেও বেলা বাড়লে বাড়তে শুরু করেছে অস্বস্তিও। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, দিনের ও রাতের আবহাওয়ার তারতম্য এতটাই বেশি থাকছে যে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে থাকলেও একটুতেই গরমের অনুভূতি টের পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা ‘এই সময়’–কে বলেন, ‘উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হলেও তার দাপট এখনও রয়েছে। এর ফলে সূর্যাস্তের পর থেকেই পরিবেশ ঠান্ডা হতে শুরু করছে। অন্য দিকে সূর্য ওঠার পরেই দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ছে। তাই গরমের অনুভূতিও বাড়ছে।

    অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিক থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ওডিশা হয়ে বাংলার পশ্চিমের জেলাগুলোর দিকে ঢুকতে শুরু করেছে। ওই বাতাস উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসার পর জলায় বাষ্পর ঘনীভবন হচ্ছে।

    এই কারণেই বেলার দিকে হালকা ঘাম হতে শুরু করেছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। তাঁদের মতে রোদের তাপ আরও কিছুটা বাড়লে আরও বেশি করে জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করবে। এই ভাবেই ক্রমশ কালবৈশাখীর আবহ তৈরি হয়। তবে, সেই পরিস্থিতি আসতে এখনও কিছুটা দেরি আছে।

    দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে রাতের তাপমাত্রা মোটের উপর ১৪ ডিগ্রি থেকে ১৭ ডিগ্রির মধ্যেই থাকছে। তবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে এখনও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির ঘরে রয়েছে। আজ বুধবার ও আগামী কাল সিকিম ও দার্জিলিং জেলার পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনাও আছে।

  • Link to this news (এই সময়)