• সামান্য মদ্যপানে ছাড়! নয়া নিয়ম পাইলটদের, জানাল DGCA
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুনন্দ ঘোষ

    এতদিন প্রি–ফ্লাইট ব্রেদালাইজ়ার চেক–এ পজ়িটিভ এলেই নিয়ম মেনে তিন মাসের জন্য বসিয়ে দিতে হতো পাইলটকে। ব্রেদালাইজ়ারের রিডিং ০.০০১ এলেই পজ়িটিভ ধরা হতো। কেউ দ্বিতীয়বার পজ়িটিভ এলে তাঁর লাইসেন্স তিন বছরের জন্য বাতিল হতো।

    এ বার কি সামান্য হলেও মদ্যপানে ছাড় পাওয়া যাবে? অন্তত ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)–এর নতুন নিয়মে সেরকমই বলছে! ডিজিসিএ জানিয়েছে, ব্রেদালাইজ়ারের রিডিং ০.০০১ থেকে ০.০০৯ এর মধ্যে এলে এ বার একটা সুযোগ পাবেন পাইলট। তিন মাস সাসপেন্ড নয়। তিনি বাড়ি ফিরে ২৪ ঘণ্টা পরে ডিউটিতে আসতে পারবেন। এই সুবিধে শুধুমাত্র প্রথমবার ধরা পড়লেই পাওয়া যাবে। অর্থাৎ যিনি 'ফার্স্ট টাইম অফেন্ডার'। আগে কখনও রিডি​ং পজ়িটিভ এলে এই সুযোগ পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে রিডিং ০.০০১ এলেও তাঁকে তিন বছরের জন্য বসিয়ে দেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, পাইলটদের বিশ্রাম সংক্রান্ত যে নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল)–এর নিয়ম চালু হয়েছে, তাতে সমস্যায় পড়েছে দেশের এয়ারলাইন্সগুলি। বেশি করে বিশ্রাম দিতে হচ্ছে পাইলটদের। সমস্ত শিডিউল মেনে ফ্লাইট চালাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলিকে। কোটি কোটি টাকা দিয়ে নতুন পাইলট নিয়োগ করতে ক্ষত তৈরি হচ্ছে তাদের।

    সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই কি মদ্যপানের নিয়ম বদলে ফেলল ডিজিসিএ — প্রশ্নটা তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিমান মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, 'আগের নিয়মে কমপক্ষে তিন মাস বসে যেতে হচ্ছিল পাইলটকে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে এক জন পাইলট তিন মাস বসে গেলে ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়বে এয়ারলাইন্স। তারা পাইলটদের অপটিমাম ব্যবহার করতে চাইছে।' এ ছাড়াও কো–পাইলটদের মতো জুনিয়রদের তিন মাস বসিয়ে বেতন দিতে চাইবে না এয়ারলাইন্স। সে ক্ষেত্রে তাঁদের চাকরিও চলে যেতে পারে। এক কর্তার কথায়, 'এ কারণে চাকরি চলে যাওয়ার উদাহরণও রয়েছে।'

    এমনিতেই ডিউটি ধরার ১২ ঘণ্টা আগে থেকে পাইলটদের মদ খাওয়া বারণ। প্রশ্ন উঠেছে, ১২ ঘণ্টা আগে কতটা মদ খেলে ব্রেদালাইজ়ার টেস্টে ০.০০৯ আসতে পারে? এক সিনিয়র পাইলটের কথায়, 'এই নিয়মের কোনও মানে নেই। ১২ ঘণ্টা পরে আপনার রিডিং ০.০০৯–এর মধ্য থাকবে সেই হিসেব করে মদ খাওয়া সম্ভব? এটা মদ্যপানের জন্য করাই হয়নি।' তা হলে কেন করা হলো? ওই সিনিয়র পাইলট বলছেন, 'পারফিউম ব্যবহার করলে, কিছু মেডিসিনের ক্ষেত্রে, কিছু খাবার খেলে তাতেও ব্রেদালাইজ়ার টেস্ট পজ়িটিভ আসে। তার লেভেল ওই ০.০০৯ এর মধ্যে থাকে। এগুলোর কারণে সমস্যা এড়াতে তাই নতুন নিয়ম চালু হয়েছে।'

    উদাহরণ দিয়ে ওই সিনিয়র পাইলট জানিয়েছেন, মাঝে এক দিন এক পাইলটের পজ়িটিভ এসেছিল। জুনিয়র ছেলে। তিনি অবাক! বলছেন, ড্রিঙ্ক করেন না। পরে জানা গিয়েছে, যে ঘরে পরীক্ষা চলছিল, সেই ঘরে নতুন পেন্টিং হয়েছে। সেখান থেকে পজ়িটিভ এসেছে। যে মেশিন দিয়ে প্রতিদিন শয়ে শয়ে টেস্ট করা হচ্ছে, তার গুণমান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন পাইলটেরা।

    পাইলটরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়ে হ্যাংওভার–ও থেকে যায়। পাইলটের নিজের মনে হচ্ছে তিনি ফ্রেশ কিন্তু, এয়ারপোর্টে এসে ব্রেদালাইজ়ার রিডিং–এ পজ়িটিভ চলে আসে। তখন বলা হয়, ভালো করে মুখে–চোখে জল দিয়ে গরম কফি খেয়ে আসতে। তারপরে দ্বিতীয়বার টেস্ট হয়। সেটা ডিজিসিএ–র নিয়মেই রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিয়ো করা হয়। যার ফুটেজ জমা দিতে হয় ডিজিসিএ–র কাছে।

    এক সিনিয়র পাইলটের কথায়, 'কেউ যদি শেষ ১২ ঘণ্টায় ড্রিঙ্ক না করে থাকে, তা হলে দ্বিতীয়বারে তার পজ়িটিভ আসার সম্ভাবনা থাকেই না।'

  • Link to this news (এই সময়)