• পাকিস্তানকে শুকিয়ে মারবে ভারত? সিন্ধুর পরে এ বার ইরাবতী নদীর জলভাগও বন্ধের পরিকল্পনা
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘রক্ত এবং জল একসঙ্গে বইতে পারে না’, পহেলগামের পরেই বার্তা দিয়েছিল ভারত। সেই অবস্থানে এখনও অনড় নয়াদিল্লি। গ্রীষ্ম আসার আগেই পাকিস্তানের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে আসতে চলেছে ভারতের নতুন পরিকল্পনা। এ বার ইরাবতী নদীর জলও যেতে না দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি নয়াদিল্লির। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রবল জলসঙ্কটের মুখোমুখি হবে ইসলামাবাদ।

    সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পরই পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে ইরাবতীর নদীর উপর শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় । জম্মু-কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা জানিয়েছেন, সেই বাঁধ নির্মাণের কাজ এখন শেষের পথে। রানা বলেন, ‘শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বাঁধ ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়ার থেকে আটকাবে এবং সেই অতিরিক্ত জল ব্যবহার করা হবে খরাপ্রবণ কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলায়।’ এখানেই শেষ নয়, মন্ত্রীর কথায়, ‘খরার কারণে যেখানে ভুগছেন কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলার মানুষ সেখানে অতিরিক্ত জল অন্য দেশে পাঠানোর কোনও অর্থ নেই। এই প্রকল্পটি দেশের মানুষের জন্য এবং খরা কবলিত কান্দি এলাকার জন্যই তৈরি হয়েছে।’

    বর্তমানে, ইরাবতী নদীর উদ্বৃত্ত জল মাধোপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় পাকিস্তানে। আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্পের কারণে পাঞ্জাবে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া এবং সাম্বা জুড়ে ৩২,১৭৩ হেক্টরেরও বেশি জমিতে সেচের কাজে জল পেতে আর অসুবিধা হবে না।

    উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৭৯ সালে ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জলের প্রবাহ পাকিস্তানের বদলে ভারতের কাজে লাগানোর জন্য শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৯৮২ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে, পাঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীর সরকারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে, প্রকল্পটিকে একটি জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়। তার পরে ফের কাজ শুরু হলেও তা চলছিল গদাইলস্করি চালে। সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পর এই প্রকল্পেও জোর দেয় কেন্দ্র।

    ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জন নিরীহ মানুষের। এই হামলায় নাম জড়ায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের। তার পরেই সিন্ধুচুক্তি স্থগিত করে ভারত। সিন্ধু জল পাওয়া বন্ধ হতেই জলসঙ্কট শুরু হয় পাকিস্তানে। পাকিস্তানের জিডিপির ২৫% কৃষির অবদান। সুতরাং, জলপ্রবাহে এই ধরনের ব্যাঘাত ফসল উৎপাদনের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এ বার রবি নদীর জলও সীমান্তের ওপারে পৌঁছনো বন্ধ হয়ে গেলে সেই সঙ্কট যে চরম রূপ ধারণ করবে তা বলাই বাহুল্য।

  • Link to this news (এই সময়)