• পচা নর্দমা আর মশার জ্বালায় ঘরবন্দি নদীকুল
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, নিমতা: এমনিতেই নিকাশির অবস্থা বেহাল, তার উপরে ঠিক মতো নিকাশি নালা পরিষ্কার (Clean) করা হয় না। পরিস্থিতি এমন যে দুর্গন্ধে টেকা দায়। সেই সঙ্গে মশা মাছির ব্যাপক উপদ্রবে অতিষ্ঠ উত্তর দমদম পুরসভার নিমতা নদীকুল ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। কয়েকজন ডেঙ্গিতেও (Dengue) আক্রান্ত হয়েছেন সম্প্রতি। সমস্যা সমাধানে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও পরিস্থিতির এতটুকু বদল হয়নি। বাসিন্দারা যখন পুর কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন, তখন পুরসভার তরফে সম্প্রসারিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু'ধারের হাইড্রেনের কাজ শেষ না হওয়াকেই দায়ী করা হয়েছে। নদীকুল এলাকাটি উত্তর দমদম পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। যার একদিকে রয়েছে ব্যস্ততম নিমতা এমবি রোড। আর একদিকে এলাকাটি মিশেছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে।

    গুরুত্বপূর্ণ এই দুই রাস্তার মধ্যবর্তী অংশে থাকা নদীকুল ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা গত কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে (Winter) জল জমার সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিকাশি নালা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। ফলে জায়গায় জায়গায় জল আটকে ড্রেনের পলি জমার ফলে মশার উপদ্রব যেমন বাড়ছে, তেমনই ছড়াচ্ছে পাঁকের দুর্গন্ধ। ড্রেনের মধ্যে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, থার্মোকল, আনাজের খোসা ও জমে থাকা আবর্জনা নিকাশির গতিপথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। সকাল থেকে রাত মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে অধিকাংশ বাসিন্দাকেই ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয়। স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক (Bank) কর্মী রেখা পাত্র বসু বলেন, 'এলাকার ড্রেনগুলি ঠিক মতো পরিষ্কার না হওয়ায় পলি জমে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশার উপদ্রবে টেকা দায় আমাদের। পুরসভার কর্মীরা বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত কি না, কোথাও জল জমে আছে কি না খোঁজ নিতে আসেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।'

    স্থানীয়দের কথায়, গত কয়েক মাসে নদীকূলে কয়েকজন ডেঙ্গিতেও আক্রান্ত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক বাসিন্দা বলেন, 'এখন বাড়ি থেকে বেরোলে নাকে রুমাল, আর বাড়িতে থাকলে হয় মশারির মধ্যে না হয় মশা মারার ধূপ জ্বালিয়ে থাকতে হচ্ছে সারাক্ষণ।' বাসিন্দাদের অভিযোগ কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলার রাজর্ষি বসু। তিনি বলেন, 'পরিকল্পনার অভাব বাম আমল থেকেই ছিল। আমরা আসার পর এমবি রোডের দু'ধারে হাইড্রেন করেছি। আগের থেকে সমস্যা অনেকটা কমেছে।' যদিও বাস্তব চিত্র বলছে এম বি রোডের হাইড্রেনের সঙ্গে বাইলেনের রাস্তাগুলির ড্রেনের সংযোগ নেই। কাউন্সিলারের কথায়, 'মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে যাতে যত্রতত্র কেউ নোংরা আবর্জনা না ফেলে।' উত্তর দমদমের পুরপ্রধান বিধান বিশ্বাস বলেন, 'সম্প্রসারিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু'পাশের ড্রেনের কাজ শেষ হয়নি। ড্রেনগুলি বেশি উঁচু হওয়ায় দু'ধারের মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। ওই কাজ শেষ হলে সমস্যা অনেকটাই মিটবে।'

  • Link to this news (এই সময়)