প্রসেনজিত্ সর্দার: ভাঙড়ের খরগাছি চাঁদপুর এলাকায় রাস্তা মেরামতির কাজ চলাকালীন এক ভয়াবহ ড্রাম বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে চার শিশু। কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম ফেটে আগুন ছিটকে আসায় শিশুদের শরীরের অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে খবর, এলাকায় জেলা পরিষদের কোটায় পিচ রাস্তা মেরামতির কাজ চলছিল। রাস্তার ধারে রাখা ছিল কাজ শেষ হওয়া অবশিষ্ট কেমিক্যাল ভর্তি তিনটি ড্রাম। হঠাৎই বিকট শব্দে একটি ড্রাম ফেটে যায় এবং মুহূর্তে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা পাশের একটি দোকানেও লেগে যায়। সেই সময় দোকানের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা চার শিশুর গায়ে আগুন লেগে তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। আহতদের প্রথমে নলমুড়ি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে: সাদিকুল আহমেদ (৯): শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা অতি সঙ্কটজনক।
সামিউল মোল্লা (৯): শরীরের প্রায় ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। সে-ও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
রায়হান মোল্লা: শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছে সে-ও। বাঙুর হাসপাতালে শওকত মোল্লা যান। ইতোমধ্যেই জানা গিয়েছে, এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল সূত্রে খবর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। কিন্তু এখনও বিপদমুক্ত নয়।
অন্য এক শিশুর চিকিৎসা নলমুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চলছে।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি সৈকত ঘোষ ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত হন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। বিধায়ক রাতেই হাসপাতালে গিয়ে আহত শিশুদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং চিকিৎসার সবরকম দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।
শওকত মোল্লা জানান, জেলা পরিষদের কোটায় রাস্তা মেরামতির কাজ চলছিল। রাস্তার পাশে রাখা কেমিক্যাল ভর্তি ড্রামটি কোনওভাবে ছিদ্র হয়ে যায় অথবা সেখানে বিড়ির আগুন পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। তিনি আহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা জানান।
জনবহুল এলাকায় এভাবে বিপজ্জনক কেমিক্যাল ফেলে রাখার ক্ষেত্রে ঠিকাদারি সংস্থার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। এলাকায় এই মুহূর্তে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।