অয়ন ঘোষাল: ভোরে ঠান্ডা, বেলা বাড়লেই বাড়ছে রোদের তেজ। এই অবস্থা খুব বেশিদিন আর স্থায়ী হচ্ছে না। চলতি সপ্তাহের শেষ থেকেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে চলেছে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গজুড়ে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পশ্চিমের জেলায় কোথাও কোথাও ৩৩ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে চলে যেতে পারে। কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠতে পারে ৩১ থেকে ৩২ এর ঘরে।
তাপমাত্রার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের শেষ দিকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ কালবৈশাখীর ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জেলায় জেলায়। বঙ্গোপসাগরে আসতে চলেছে নিম্নচাপ যার প্রভাবে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একযোগে বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণবঙ্গে বসন্তের অনুভূতি ক্ষণস্থায়ী হতে চলেছে। বড়জোর ২৬ বা ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বসন্তের অনুভূতির পর বাড়তে চলেছে গরম।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। নিম্নচাপটি পরবর্তী পর্যায়ে কিছুটা শক্তিশালী হবার সম্ভাবনা রয়েছে মার্চের শুরুতেই। তবে এই নিম্নচাপের প্রত্যক্ষ প্রভাব বঙ্গে পড়বে না। পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে বাতাসে বৃদ্ধি পেতে পারে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ। ফলে তাপমাত্রা এবং জলীয় বাষ্পের যুগলবন্দিতে দক্ষিণবঙ্গের গাঙ্গেয় ভাগে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে।
উত্তরেও চড়ছে পারদ। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে কমছে রাতে এবং ভোরে শীতের দাপট। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে শীতের তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন অঞ্চলে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কাটলেও উত্তরের পার্বত্য দুই জেলা ছাড়া শীতের হালকা আমেজ আর ফেরার সম্ভবনা ক্ষীণ।
কলকাতায় রাতেও গায়েব হয়ে গেল শীতের ন্যূনতম আমেজ। কাল রাতে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি অতিক্রম করল। আজ রাতে ১৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে চলেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগামী সোমবারের মধ্যে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ অতিক্রম করে যেতে পারে। কলকাতায় গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ছাড়িয়ে গেছে। আজ সেই তাপমাত্রা ৩০ ছুঁই ছুঁই হতে চলেছে। সোমবারের পর সেই তাপমাত্রা ধাপে ধাপে ৩২ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে যাবে।