• উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল: কর্মহীন প্রায় একশো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
    আনন্দবাজার | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • রাজ্যে চিকিৎসক-সঙ্কটের কথা বলা হলেও, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯৭ জন ‘পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি’ (পিজিটি) পড়া শেষ করে কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের ‘কাউন্সেলিং’ হয়নি। স্বাস্থ্য দফতর সরকারি হাসপাতালে নিয়োগও করেনি। কোর্স শেষ হওয়ায় তাঁদের এখন ‘ডিউটি’ দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা কার্যত কর্মহীন। কলেজ সূত্রের খবর, এই ‘পিজিটি’-দের একটা বড় অংশ আর জি কর-কাণ্ডের পরে প্রতিবাদ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সে কারণেই তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে এমন ‘পিজিটি’র সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। এঁরা বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। কারও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কোর্স শেষ হয়েছে, কারও ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে। এ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা-স্বাস্থ্য অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘ওই চিকিৎসকদের রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়োগ করতে আরও সময় লাগবে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’’

    উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালগুলোতে এমনিতেই চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে থেকে ‘পিজিটি’ পাশ করা কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, ‘‘আড়াই মাস ধরে বেকার বসে রয়েছি। কাউন্সেলিং হয়নি। সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ হয়নি। কী করব বুঝতে পারছি না! আরজি কর আন্দোলনে আমাদের ভূমিকার জেরেই এই পরিস্থিতি কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।’’

    ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেল‌্থ সার্ভিস ডক্টরস’-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পড়াশোনা শেষ করা ওই ডাক্তারদের বেকার বসিয়ে রাখা হয়েছে কেন! এই গাফিলতির জন্য মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’’ রাজ্যে শাসক দল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ হেল‌্থ অ্যাসোসিয়েশন’-এ সাধারণ সম্পাদক করবী বড়াল বলেন, ‘‘কেন ওই ডাক্তারদের নিয়োগে দেরি হচ্ছে খোঁজ নেব।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)