• ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’-এ ফিরছে ‘কাকাবাবু’র পুরনো শত্রুরা? থাকছে কী কী চমক? সোজাসাপটা পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়
    আজকাল | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অভিযানের ডাক আবার শোনা যাচ্ছে। ফিরছেন রাজা রায়চৌধুরী, ফিরছে অ্যাডভেঞ্চারের উত্তেজনা। তবে তাড়াহুড়ো নয়। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালেই বড়পর্দায় দেখা যাবে 'কাকাবাবু'কে। প্রযোজনা সংস্থা ‘এসভিএফ’ ও ‘এনআইডিয়াজ’-এর তরফে সম্প্রতি ঘোষণা হয়েছে, ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’-এর হাত ধরেই আবার কাকাবাবু হয়ে ফিরবেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিচালনায় থাকছেন আগের ছবির মতোই চন্দ্রাশিস রায়।

    ‘বিজয়নগরের হীরে’-র পর থেকেই কাকাবাবু কে ঘিরে দর্শকের চাহিদা ছিল প্রবল। সেই ভালবাসার জবাব দিতেই আসছে কাকাবাবুর নতুন অভিযান। আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানিয়েছিলেন, শিশুদের কাছে তাঁর তারকাখ্যাতির পরিচয়ের থেকেও ‘কাকাবাবু’ নামটাই বেশি আপন। তাদের চোখে বাস্তব আর পর্দার মধ্যে কোনও সীমারেখা নেই। এই আবেগই তাঁকে বারবার চরিত্রে ফিরিয়ে আনে।

    উপন্যাস হিসেবে ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ শুধু আরেকটি অভিযান নয়, এটাই কাকাবাবুর প্রথম গল্প। এই বইয়ের মাধ্যমেই সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমবার পাঠকদের সামনে আনেন এই কিংবদন্তি চরিত্রকে। কাশ্মীরের হিমশীতল উপত্যকা, রহস্যময় লোককথা, ইতিহাসের অজানা অধ্যায় আর দুর্ধর্ষ দস্যুদের সঙ্গে সংঘর্ষ -সব মিলিয়ে, দারুণ জমাটি। আবার এই গল্পের ভিতেই রয়েছে কাকাবাবু ইউনিভার্সের বীজ। এবার ব্যাপার হচ্ছে যেকোনও জনপ্রিয় সাহিত্য অথবা কমিকসের চরিত্রের প্রথম গল্পটি নিয়ে বেশ স্পর্শকাতর থাকে তার পাঠকদল। তার উপরে প্রথম গল্পে জনপ্রিয় চরিত্রটির পুরোপুরি রং-তেজ-দাপট একসঙ্গে ধরা দেয় না সাধারণত, যদিও তার ঝলক অবশ্যই থাকে। বয়সটাও থাকে কম। তাই যেকোনও জনপ্রিয় চরিত্রের অরিজিন স্টোরি নিয়ে ছবি তৈরি করা খানিক ঝুঁকির তো বটেই। তাই চট করে কেউ করতেও চান না। তাহলে কেন এই ঝুঁকি নিচ্ছেন প্রসেনজিৎ ও চন্দ্রাশিস? এই ছবিকে বড়পর্দায় উপস্থিত করবার ব্যাপারে কীভাবে পরিকল্পনা আঁটছেন তাঁরা? সব মিলিয়ে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে ছোট্ট করে আড্ডা মেরে নিলেন পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়।

    পরিচালক চন্দ্রাশিস স্পষ্ট জানালেন, ছবিতে এই উপন্যাসকে কাকাবাবুর “অরিজিন স্টোরি” হিসেবে দেখানো হবে না। তাঁর কথায়, চরিত্রটি ইতিমধ্যেই দর্শকের কাছে প্রতিষ্ঠিত। তাই নতুন করে শুরু নয়, বরং পরিচিত নায়কের নতুন অভিযান হিসেবেই গল্প বলা হবে। চন্দ্রাশিস আরও জানান, আসলে এই গল্প দিয়েই তাঁর কাকাবাবু-পরিচালনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। নানা কারণে তা হয়নি। তবে গল্পের প্রতি টান এতটাই ছিল যে, অন্য কোনও অভিযানের ছবি করলেও শেষমেশ ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’-এ ফিরতেনই। তিনি আরও বলেন, এ ছবিতে অকারণ সিনেম্যাটিক বাড়াবাড়ি থাকবে না। যেমন, আগের ছবিতে জনপ্রিয় চরিত্র জোজো ছিল, দর্শক তাকে পছন্দও করেছিল কিন্তু ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’-এ ‘জোজো’ নেই। ফলে এই ছবিতে তাকে জুড়ে দেওয়া হবে না।

    কাকাবাবু এখন সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করা হল, এই ছবিতে কি পুরনো চরিত্র বা খলনায়কদের প্রত্যাবর্তন ঘটবে?পরিচালক সরাসরি উত্তর না দিলেও মুচকি হেসে পরিচালক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, “অসম্ভব নয়, হলে মন্দ হয় না। এখনই কোনও মন্তব্য করব না এই বিষয়ে”

    শেষ প্রশ্ন ছিল, কাকাবাবুর স্বত্ব যেহেতু প্রসেনজিতের কাছে, তাই কি আরও একবার 'সবুজ দ্বীপের রাজা' কে খুঁজতে বেরোতে পারেন কাকাবাবু, তাঁর নির্দেশে? ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’ নিয়ে এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট বলেন, এই উপন্যাস নিয়ে ইতিমধ্যেই কিংবদন্তি পরিচালক তপন সিনহা স্মরণীয় ছবি বানিয়েছেন। তাই সেটিকে আবার নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন তিনি দেখেন না।

    পরিচালকের কথা থেকেই জানা গেল, ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’-এর চিত্রনাট্যের খসড়া তৈরি হলেও কাজ এখনও শুরুতেই। সামনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি। নির্মাতাদের লক্ষ্য দর্শককে শুধু নস্টালজিয়া নয়, নতুন বিস্ময়ও উপহার দেওয়া।

    উল্লেখ্য, বড়পর্দায় কাকাবাবু হিসেবে প্রসেনজিতের যাত্রা শুরু হয়েছিল পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তাঁর নির্মিত তিনটি ছবিই দর্শকমহলে কমবেশি সাড়া পেয়েছিল। পরে পরিচালনার দায়িত্ব নেন চন্দ্রাশিস, এবং সেই ধারাবাহিকতাতেই এগোচ্ছে নতুন অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে প্রসেনজিতের কাকাবাবু হয়ে ওঠা যেন আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। অভিজ্ঞতা, সংযম আর অভিনয়ের গভীরতায় তিনি চরিত্রটিকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা, যা আজ সব প্রজন্মের দর্শকের কাছেই সমান আকর্ষণীয়।
  • Link to this news (আজকাল)