‘থিয়েটার দেখাটা এখন মানুষের কাছে বিলাসিতা’ - ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়
বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়ের ‘আনন্দী’র সফর কেমন? একান্ত আলাপচারিতায় ভাগ করে নিলেন নানা কথা।
লাহিড়ি বাড়ির আদিদেব। অভিনেতা ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়ের গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এটাই পরিচয়। সৌজন্যে জি বাংলার ধারাবাহিক ‘আনন্দী’। সূত্রের খবর, এই ধারাবাহিক শেষের পথে। আজ বুধবার সম্ভবত ‘আনন্দী’র শেষ শ্যুটিং। ঋত্বিকের কাছে এই জার্নি অত্যন্ত আনন্দের। স্পষ্ট বললেন, ‘কতদিন ধারাবাহিক চলবে কেউ নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু আমাদের অদম্য সততা রয়েছে। জানি, ভালো কিছু হবেই।’
এই ধারাবাহিকে চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋত্বিক। ‘অভিনয় না করলে চিকিৎসকরা আসলে কেমন হন, তা বুঝতাম না। এখন সিকিভাগ হলেও ওই অনুভূতিটা হয়। আসলে অভিনয় করলে বিভিন্ন জীবন বেঁচে নেওয়া যায়। সেটা মজা, আবার দায়িত্বেরও’, বললেন ঋত্বিক।
হঠাৎ করেই ঋত্বিকের অভিনয়ের শুরু। ছোট থেকে অভিনেতা হওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবার। স্নাতক হওয়ার পর চাকরি করার তাগিদ ছিল তাঁর। বন্ধুদের জমায়েতে একজন হঠাৎই অভিনয় করার কথা বলেন। সেখান থেকে থিয়েটার করা শুরু। আজ ফিরে তাকালে কী মনে হয়? অভিনেতার জবাব, ‘এখন নিজেকে বলি, এগিয়ে যাও। এটাই তো চেয়েছিলে তুমি। তবে থিয়েটারে আমি ফিরবই। এটা নিশ্চিত।’ অভিনয়ের শুরু থেকেই ঋত্বিকের থিয়েটারের প্রতি ভালোবাসা। তাঁর কথায়, ‘আমার বাবা নাটক করতেন। অ্যাকাডেমির মঞ্চে বাবার অভিনয় দেখেছিলাম। তারপর আবার নাটক দেখি যখন আমি নিজে থিয়েটার করতে শুরু করি। আমি পি সি সরকারের ম্যাজিক দেখিনি। থিয়েটার দেখেছি। আমার কাছে ওটা ম্যাজিকের থেকেও বেশি কিছু।’
ঋত্বিকের সিংহভাগ কাজ টেলিভিশনে। নিয়মিত থিয়েটার করেন না কেন? অভিনেতার জবাব, ‘টেলিভিশনের আর্থিক নিরাপত্তা থিয়েটারে নেই। বর্তমানে বাংলা থিয়েটারের অবস্থা খুব খারাপ। কলকাতায় ক’টা নাটকের দল রয়েছে। ক’টা অ্যাকটিভ? ক’টা শো হাউজফুল হয়? এই খবরটা রাখতে হবে। একটা শো লোকে ভিড় করে দেখলে তাতে বাংলা থিয়েটারের আখেরে লাভ নেই। ওই দলটার লাভ। যারাই নাটক করবে, তাদের শো-ই যদি হাউজফুল হয়, তাহলে থিয়েটারের লাভ। এমন নাটক করতে হবে, যাতে দর্শক দেখতে আসতে বাধ্য হবে। তবে এটা বলা এখন খুব মুশকিল। কারণ এত অপশন হয়ে গিয়েছে, লোকে নাটক দেখতে কেন আসবে? দর্শকের পছন্দ বদলেছে। থিয়েটার দেখাটা এখন মানুষের কাছে বিলাসিতা।’
অভিনেতা ঋত্বিক কীসে ভয় পান? মন খারাপ হলে সামাল দেন কীভাবে? হেসে বললেন, ‘কাজ না থাকার ভয় লাগে। ছোট্ট একটা গল্প বলি। আমার দাদু বলত, ঘুমনোর আগে প্রতিদিন ভাববে, আজ সারাদিন কী কী করলে। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল নিজেই বুঝতে পারবে। সেলফ অ্যানালিসিস। মন খারাপ হলে সেটা সাহায্য করে। আমি এটা অভ্যেস করার চেষ্টা করি।’