• তারাপীঠে দমকল কেন্দ্র গড়তে ৪ কোটি বরাদ্দ, খুশি বাসিন্দারা
    বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে আসা লক্ষ লক্ষ পর্যটকের নিরাপত্তার কথা ভেবে গাড়ি বরাদ্দ থেকে কর্মী নিয়োগ আগেই হয়েছিল। কিন্তু জায়গা ও আর্থিক বরাদ্দের অভাবে স্থায়ী দমকল কেন্দ্র করা যাচ্ছিল না। ফলে টিআরডিএ অফিসের পাশে ছাউনি গড়ে অস্থায়ী ভাবে দমকলকেন্দ্র করা হয়। অবশেষে ছ’বছর পর আটলা গ্রামের এসবিএসটিসির নির্মীয়মাণ ডিপোর কাছাকাছি স্থায়ী দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ৩কোটি ৮৬লক্ষ ২৩ হাজার ৫৪৬টাকা বরাদ্দ করল রাজ্যের দমকল বিভাগ। মঙ্গলবার টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুমোদনের চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তারাপীঠে প্রায় ৫০০টি লজ, হোটেল ও রিসর্ট রয়েছে। নিত্যদিন হাজার হাজার পুণ্যার্থী এই সিদ্ধপীঠে আসা যাওয়া করেন। কিন্তু এখানে কোনও দমকল কেন্দ্র না থাকায় কোনও অগ্নিকাণ্ড বা বিপর্যয় ঘটলে ন’কিলোমিটার দূরে রামপুরহাটে থাকা দমকল কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। রামপুরহাট শহরের ভিতরে ও জাতীয় সড়কে যানজট থাকায় দমকলের গাড়ি আসতে সময় লাগলে অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এছাড়া কোনও পুণ্যার্থী দ্বারকা বা জীবিতকুণ্ডর জলে ডুবে গেলে দেহ উদ্ধারে অনেক সময় লেগে যায়। এর আগে কৌশিকী অমাবস্যার সময় জীবিতকুণ্ডর জলে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হয় এক পুণ্যার্থীর। এছাড়া প্রায়ই জীবিতকুণ্ডের পাশে ধূপকাঠি জ্বালাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বেশ কয়েকজন পর্যটক। মন্দির সংলগ্ন বিদ্যুতের খুঁটিতে শট সার্কিট থেকে এবং হোটেলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রামপুরহাট থেকে দমকলের গাড়ি আসার আগেই পুড়ে যায় হোটেলের একাংশ।

    ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে তারাপীঠের সেই সমস্যার কথা তুলে ধরে দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয় টিআরডিএ। দমকল মন্ত্রী তাতে সায় দেন। কিন্তু কোভিডের কারণে জমি চিহ্নিত না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। এরপর প্রথমে ঠিক হয়, ৫১পীঠের জন্য চিহ্নিত জায়গায় দমকল কেন্দ্র করা হবে। কিন্তু তাতে ওই প্রকল্পের জায়গা কমে আসবে বলে আপত্তি তোলে টিআরডিএ। এরপর বিকল্প জায়গার খোঁজ শুরু হয়। এরইমধ্যে মাস কয়েক আগে অস্থায়ীভাবে দমকল কেন্দ্র করা হয়। রামপুরহাট থেকে একটি গাড়ি দেওয়া হয় তারাপীঠে। এরপর ওসি থেকে কর্মী নিয়োগও হয়। গতবছরের শুরুতে তারাপীঠের জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ করা হয়। সেই অস্থায়ী কেন্দ্র থেকেই পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন কর্মীরা। অবশেষে ছ’বছর পর স্থায়ী দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হল।
    আশিসবাবু বলেন, দমকল মন্ত্রী হোয়াটসঅ্যাপে আর্থিক অনুমোদনের কপি পাঠিয়ে ফোন করে স্থায়ী দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ভোটের আগেই টেন্ডার করে দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু করার ব্যাপারে তৎপর হচ্ছি। আপাতত এই কেন্দ্রে দু’টি গাড়ি থাকবে।

    তারাপীঠ দমকল ওসি নীলাদ্রি মজুমদার বলেন, স্থায়ী কেন্দ্র না থাকায় পাঁচ হাজার লিটার জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি খোলা জায়গায় রাখতে হচ্ছে। একটি রুমে ১৬জন কর্মী থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে ওঠার পর এখানে গাড়ির পাশাপাশি কর্মী সংখ্যাও বেড়ে যাবে।

    দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হওয়ায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, তারাপীঠে দমকল কেন্দ্র হলে তীর্থভূমি ছাড়াও রামপুরহাট-২ ও ময়ূরেশ্বর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ ও লাগোয়া মুর্শিদাবাদের বহু গ্রাম উপকৃত হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)