নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের ভূমিরূপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু। বৃষ্টির বেশির ভাগ জল ঢাল বেয়ে নেমে যেত। চাষের কাজে পর্যাপ্ত জল মিলত না। নদী তীরবর্তী ছাড়া বেশিরভাগ জায়গায় বছরে একবার ফসল ফলত। তিন বছরে জেলায় ৬১ টি চেক ড্যাম হয়েছে। ঢালু ও শুষ্ক জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে এখন। ফলে প্রান্তিক এলাকার চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন।
জেলা সেচ দপ্তরের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উদয়শঙ্কর সরকার বলেন, পরিকল্পনামাফিক জেলার প্রতিটি প্রান্তে চেক ড্যামগুলি তৈরি হয়েছে। শুখা এলাকার চাষিরা এবার সারবছর সেচের জল পাবেন।
ঝাড়গ্রামে ২০২২ সালে ৫০টি চেকড্যাম তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। জেলার সেচ দপ্তর সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে আরও ১১টি চেক ড্যাম তৈরি করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকা ছাড়া যে এলাকায় বছরে একবার ফসল ফলত সেখানে ধান চাষের পাশাপাশি নানা ধরনের সবজির চাষ হচ্ছে। জল সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের কৃষি ও সেচ বিভাগ, অনুসন্ধান ও পরিকল্পনা বিভাগ, কেসিডিএ চেক ড্যামগুলি তৈরি করে।
জেলার প্রতিটি এলাকার চাষ যোগ্য জমিতে এবার সেচের জল মিলবে। জেলা সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ঝাড়গ্রামের পশ্চিম অংশের নদী ও খালের জল এবার সহজে চেক ড্যাম্পে ধরে রাখা যাবে। বছরভর চাষের কাজে জল মিলবে। নির্ধারিত লক্ষ্যের বেশি চেক ড্যাম তৈরি সম্ভব হয়েছে। ৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আরও দু’’টি চেক ড্যাম তৈরির কাজ চলছে। বেলপাহাড়ী পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দূর্গেশ মাহাত বলেন, পাহাড়ী এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলের সঙ্কট ছিল। সাব মার্সিবল সব জায়গায় বসানো যায় না। চেক ড্যাম হওয়ায় নদীর জল ধরে রাখা যাচ্ছে।
বিনপুর -২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময়ে সেভাবে চাষাবাদ হত না জঙ্গলমহলের এই জেলায়। স্থানীয় মানুষ বছরের অন্য সময় ভিনরাজ্যে কাজে যেতেন। চেক ড্যামগুলি তৈরি হওয়ায় সারাবছর এখন জল মিলছে। গোপীবল্লভপুর -১ ব্লকের আমঝুরির চাষি কিঙ্কর রাউত বলেন, চেক ড্যাম তৈরি হয়েছে। এলাকার তিনশোর বেশি চাষি এতে উপকৃত হবেন।