উন্নয়নে নয়, ভোট প্রচারে গেরুয়া শিবিরের ভরসা সেই হিন্দুত্বই, বাড়ি বাড়ি গীতা বিলি শুরু বিজেপির
বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ধর্মের নেশায় বুঁদ করে ভোট গোছানোর খেলা কি শুরু হল বাংলায়? একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রবল মেরুকরণের চেষ্টা করেও মুখ থুবড়ে পড়েছিল বঙ্গ বিজেপি। বাঙালির অস্মিতা আর সম্প্রীতির সংস্কৃতির কাছে হার মেনেছিল ‘বাহিরাগত’ সংস্কৃতি। কিন্তু, তাতেও যে নিজেদের পুরানো লাইন থেকে সরছে না গেরুয়া শিবিরের নেতারা, তা ফের স্পষ্ট হচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডে। এবারও হিন্দুত্বের তাস খেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগাতে বাড়ি বাড়ি গীতা বিলি শুরু করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই হিন্দুত্বের তাস খেলছে গেরুয়া শিবির।
একুশের নির্বাচনে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতির উপরেই বাজি ধরেছিল মোদি-শাহের দল। উত্তরপ্রদেশ থেকে যোগী আদিত্যনাথদের উড়িয়ে এনে হিন্দুত্বের ধ্বজা ওড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল। বাঙালির ‘ঘরের মেয়ে’কে হারাতে হিন্দু-মুসলিমের মেরুকরণই ছিল তাদের তুরুপের তাস। মুসলিমদের নিয়ে কুমন্তব্য করে হিন্দুদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু বিজেপির এই হিন্দুত্বকে ভালভাবে নেয়নি বাঙালি। হিন্দু-মুসলিমের সহাবস্থান দেখতে অভ্যস্ত যে রাজ্য, সেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ হুঙ্কার কাজে লাগেনি। ফলে ভরাডুবি হয়েছিল বিজেপির। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বারবার হারের পরও বিজেপি তাদের বিভাজনের রাজনীতি থেকে সরতে নারাজ। মঙ্গলবার সিউড়ি বিধানসভার রাজনগরের বিভিন্ন গ্রামে বিজেপি নেতারা বাড়ি বাড়ি গীতা বিলি করেন। ছিলেন ওই মণ্ডলের নেতা অনুপ গড়াই, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। বিজেপি নেতাদের দাবি, তাঁরা ‘ঘুমিয়ে থাকা বাঙালি’কে জাগ্রত করতে নেমেছেন। শ্রীমদ্ভাগবত গীতাকে ভক্তিভরে মানুষ যেভাবে গ্রহণ করছে তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে বাংলায় সনাতনের জাগরণ আসন্ন। পশ্চিমবঙ্গে আগামী কিছুদিনের মধ্যে ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। প্রশ্ন উঠছে, যে রাজ্যে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের আদর্শে ধর্মচর্চা হয়, সেখানে হঠাৎ করে রাজনৈতিক দলের হাত থেকে গীতা নিয়ে কেন ধর্ম শিখতে হবে বাঙালিকে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসলে গীতা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বিজেপির আসল লক্ষ্য হল ভোটের আগে হিন্দু ভোটকে নিজেদের দিকে টানা।
সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বিজেপি কিছুই করেনি। ১০০দিনের কাজের টাকা আটকে রেখে বাংলার মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা করেছে। এখন উন্নয়নের কথা বলে ভোট চাওয়ার হিম্মত নেই বলেই ওরা ধর্মের রাস্তায় হাঁটছে। বিভাজন করে মানুষের মধ্যে অশান্তি পাকানোই ওদের লক্ষ্য। কিন্তু বাংলার মানুষ অত বোকা নয়। রাজ্যবাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশেই থাকবেন। সমালোচনায় সরব হয়েছে বামেরাও। সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুই দলই ধর্মকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্নকে আড়াল করতে চায়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বাঙালি এই বিভাজনের রাজনীতিকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলবে।