• শিলিগুড়িতে মা ক্যান্টিনের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, এক বছরে ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার প্লেট ডিম-ভাত বিক্রি
    বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা ক্যান্টিনের জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী। প্রশাসন সূত্রের খবর, এক বছরে শিলিগুড়িতে সাতটি ক্যান্টিন থেকে পাঁচ টাকায় বিলি করা হয়েছে ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৩৭ প্লেট ডিম-ভাত। অর্থাৎ, ২০২৪-’২৫ এর তুলনায় ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে প্লেটের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক লক্ষ। বিধানসভা ভোটের মুখে এনিয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত শিলিগুড়ি পুরসভা। তারা শহরে আরও একটি ক্যান্টিন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে পুরকর্তৃক্ষ তিনটি ক্যান্টিনের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সেরা সামাজিক প্রকল্পগুলির মধ্যে মা ক্যান্টিন একটি। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো উত্তরবঙ্গের ‘বাণিজ্য নগরী’ শিলিগুড়িতেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চলছে রমরমিয়ে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেকটাউন, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিমোড় বউ বাজার, এনজেপি রেল স্টেশনের কাছে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরনো বাসস্ট্যান্ড ও শিলিগুড়ি জংশনে ক্যান্টিনগুলি রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ক্যান্টিনগুলি থেকে পাঁচ টাকায় বিলি করা হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৪০ হাজার প্লেট খাবার। মেনুতে ছিল— ভাত, ডাল ও ডিমের ঝোল। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনগুলি থেকে বিলি করা হয়েছে ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৩৭ প্লেট খাবার। অর্থাৎ এক বছরে প্লেটের সংখ্যা বেড়েছে এক লক্ষের বেশি।

    পুরসভার ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনগুলির উপর প্রচুর মানুষ নির্ভরশীল। সাতটি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ক্যান্টিনগুলি চালানো হচ্ছে। ব্যাপক সাড়া মিলছে। এই প্রকল্পে পুরসভা ভরতুকি দিয়েছে ৫৪ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।

    সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের চাহিদা বাড়ায় উচ্ছ্বসিত পুরকর্তৃপক্ষ। তারা আরও কয়েকটি ক্যান্টিন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে যে ক্যান্টিনগুলি রয়েছে, সেগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ক্যান্টিনে খাবারের চাহিদা সর্বাধিক। দৈনিক ৫০০’রও বেশি প্লেট খাবার বিলি হয় সেখান থেকে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ক্যান্টিন থেকে দৈনিক ২০০, শান্তিনগর বউবাজারে দৈনিক ৩০০ প্লেট বিলি করা হয়। বাকিগুলিতেও দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ প্লেট খাবার বিলি হয়। ডেপুটি মেয়র বলেন, শহরের বেশকিছু জায়গায় মা ক্যান্টিনের চাহিদা রয়েছে। এবার সুভাষপল্লি মার্কেট কমপ্লেক্স চত্বরে একটি ক্যান্টিন করা হবে। যা ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে অনুমোদনও হয়েছে।

    একই সঙ্গে ক্যান্টিনগুলি মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালের ক্যান্টিন দু’টিতে রান্নাঘর ও ডাইনিং হল আছে। দু’টিতেই বসে খাবার খেতে পারেন উপভোক্তারা। শান্তিনগর বউবাজার, পুরনো বাসস্ট্যান্ড ও শিলিগুড়ি জংশনের ক্যান্টিনগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)