যুবসাথীতেই সব নজর, বেলা গড়ালেও কৃষিদপ্তরের বুথ কর্মীহীন
বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: কাউন্টার খুলেই দায়িত্ব শেষ! নাহলে বেলা গড়িয়ে দুপুর হলেও কেন ইসলামপুর পুরসভার রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে কৃষিদপ্তরের কাউন্টারে দেখা মিলবে না সরকারী কর্মীর? এই কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের ফলে সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে এসে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যেতে হল ভূমিহীন খেতমজুরদের। তাঁদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেন, সব নজর কি তাহলে যুবসাথীতেই? কাউন্টারে আসা নাজিম আলির অভিযোগ, বাবা অসুস্থ। তাঁর জন্য ফর্ম নিতে এসেছিলাম। কিন্তু কোনো কর্মীকে দেখতে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।
অন্যদিকে, যুবসাথীতে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য একাধিক কাউন্টার খোলা হয়েছে। একই শিবিরে পৃথক দপ্তরের কাউন্টারে ভিন্ন চিত্র দেখে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,ইসলামপুর শহরের কোর্ট ময়দানে পুরসভার উদ্যোগে রেজিস্ট্রেশন শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা নাম নথিভুক্ত করাচ্ছেন। ওই মাঠের অন্য প্রান্তে ব্লক প্রশাসনের শিবির আছে। সেখানে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা রেজিস্ট্রেশন করাচ্ছিলেন। দু’টি শিবিরের দূরত্ব মেরেকেটে ১০০ মিটার।
পুরসভা এলাকার শিবিরে কৃষি দপ্তরের কাউন্টারে কর্মী না থাকা প্রসঙ্গে মহকুমা সহ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) মহফুজ আহমেদ বলেন, পাশের শিবিরে দপ্তরের কর্মীরা বসেছেন। সেখান থেকে ফর্ম দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার কর্মী সঞ্জয় দত্ত জানান, পুরসভা অফিসে কৃষি বিভাগ নেই। কিন্তু শিবিরে কৃষিদপ্তরের কাউন্টার আছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের বসার কথা। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁরা বসেননি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফোন করা হলে তারা জানিয়েছে, কর্মী কম থাকায় কেউ বসেননি। সঞ্জয় বলেন, এদিন পুরএলাকার যাঁরা কৃষি দপ্তরের কাউন্টারে এসেছিলেন, তাঁদের বলেছি অনলাইনে আবেদন করতে। কৃষি দপ্তর যদি আমাদের কাছে ফর্ম দিত, সেক্ষেত্রে তাদের কর্মী না থাকলেও আমরা দিতে পারতাম।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার শিবিরে কর্মী বসছেন না। পাশের শিবির থেকে ফর্ম নেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রচার কিংবা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। পাশের শিবির থেকেই যদি ফর্ম নিতে হয়, তাহলে এখানে কেন কাউন্টার খোলা হল?
পুরসভা এলাকায় অনেক চাষের জমি আছে। অনেক পুরনাগরিক কৃষিকাজ করেন। এছাড়া অনেকে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। তাঁদের একাংশ পুরসভা ও সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলে চাষের জমিতে শ্রম দেন। প্রকল্প অনুসারে যাঁদের চাষের জমি নেই কিন্তু চাষের কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, তাঁদেরও সরকার বছরে দুই কিস্তিতে চার হাজার টাকা দেবে। সরকারি সুযোগ নিতে পুর এলাকায় বসবাসকারী অনেকে প্রকল্পে আবেদনের জন্য ফর্ম নিতে গিতে কাউন্টারে কর্মীর দেখা না পেয়ে ঘুরে এসেছেন এদিন।