গুটখার পিকে ভরছে দেওয়াল-লিফট জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না
বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পান ও গুটখার পিকে ভরছে জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভিতরের দেওয়াল। বাদ যাচ্ছে না লিফটের ভিতর। ফলে চরম নোংরা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে হাসপাতালের করিডর কিংবা ওয়ার্ডে। একেবারে গা ঘিন ঘিন পরিস্থিতি। এভাবে হাসপাতালের ভিতরের দেওয়ালে পান ও গুটখার পিক ফেলা বন্ধে কড়াকড়ি করা হলেও পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, তা স্বীকার করে নিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
মেডিকেলের সুপার কল্যাণ খাঁর দাবি, হাসপাতালে ঢোকার সময় কারও কাছে পান, গুটখা রয়েছে কি না তা দেখা হচ্ছে। থাকলে সেসব হাসপাতালের গেটে জমা রেখে তারপর ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরও চোরাগোপ্তাভাবে ওইসব সামগ্রী হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। এক শ্রেণির মানুষ হাসপাতালের করিডরে কিংবা ওয়ার্ডের ভিতরে পান ও গুটখার পিক ফেলে দেওয়াল নোংরা করছে। হাসপাতাল সুপারের দাবি, এনিয়ে জরিমানা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে কাউকে দেওয়ালে বা লিফটের ভিতরে পানের পিক ফেলতে দেখলে হাতেনাতে ধরে জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু রোজ বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করার পরও হাসপাতালের দেওয়ালে পান ও গুটখার পিক ফেলা বন্ধ হচ্ছে না।
সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের প্রতিটি গেটে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভিজিটিং আওয়ার্সে যাঁরা রোগীকে দেখতে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকবেন, তাঁদের কাছে পান, গুটখা কিংবা কোনো নেশার সামগ্রী রয়েছে কি না তা ভালোভাবে তল্লাশি করে দেখতে হবে। কিন্তু তারপরও কীভাবে হাসপাতালের ভিতরে পান, গুটখা নিয়ে লোকজন ঢুকে পড়ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, গেটে আদৌ ঠিকমতো চেকিং হচ্ছে না। নাম কা ওয়াস্তে ডিউটি করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। যার কারণে পান, গুটখা সহ নেশার সামগ্রী অবাধে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। হাসপাতাল চত্বরে অবাধে এসব নেশার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।
মাঝেমধ্যে পুলিশ নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর অভিযান চালালেও আখেরে কোনো লাভ হচ্ছে না। জরিমানা করেও মোটেই হাসপাতাল চত্বরের দোকানগুলিতে গুটখা কিংবা ওই ধরনের নেশার সামগ্রী বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
শুধু যে পান কিংবা গুটখার পিকে হাসপাতালের ভিতরের দেওয়াল কিংবা লিফট নষ্ট করা হচ্ছে তা নয়। ওয়ার্ডের বাথরুম নষ্ট করা হচ্ছে। বাথরুমের জানালা দিয়ে যথেচ্ছভাবে বর্জ্য ছুড়ে ফেলা হচ্ছে নীচে। সুপারের দাবি, এটা ঠিক যে, ওয়ার্ডের বাথরুম থেকে বিশেষ করে ফিমেল ওয়ার্ডের বাথরুম থেকে নীচে বর্জ্য ছুড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে।
বারবার বলার পরও রোগীদের একাংশের মধ্যে এনিয়ে সচেতনতা ফেরানো যায়নি। বাধ্য হয়ে কার্নিশে বাড়তি শেড করে দেওয়া হয়েছে। দু’দিন অন্তর ওই শেডের উপর বর্জ্য ভরে যাচ্ছে। সেসব পরিষ্কার করতে করতে আমরা হাঁফিয়ে উঠছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাউন্সেলিং করানোর কথা ভাবছি।