• এসআইআর’ই বুমেরাং, তৃণমূলকে জব্দ করতে গিয়ে ঘর ভাঙছে পদ্মর
    বর্তমান | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে বিজেপির খাসতালুক কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় পদ্ম শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করে জোড়াফুলের ভোটব্যাংকে থাবা বসানোর যে পরিকল্পনা পদ্ম শিবির করেছিল, সেটা কার্যত ওদের কাছে বুমেরাং হয়ে গেল, দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। এদিকে, ভোটের ঠিক প্রাক্‌মুহূর্তে বিজেপির কব্জায় থাকা বিধানসভা এলাকায় ভাঙন ধরাতে পেরে উজ্জীবিত ঘাসফুল শিবির। একই দিনে দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ৫৯টি পরিবারের শতাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলে যোগদান করেছেন।
    তৃণমূলের দাবি, এসআইআর করে তাদেরকে জব্দ করতে চেয়েছিল বিজেপি। তাই বিজেপির শক্তঘাঁটি কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রেই ঘর ভাঙা শুরু হয়েছে। বিজেপি ছেড়ে একের পর এক ওদের নেতা-কর্মী যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে। উল্লেখ্য, এই বিধানসভা এলাকায় এসআইআরের আতঙ্কে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটার তালিকায় জীবিতকে মৃত বলে ঘোষণা করা নাম ছিল অনেকের।

    গত সোমবার সকালে রাজারহাট টাকাগাছ অঞ্চলের মালতীগুড়ি, যাত্রাপুর, রাজারহাট চৌপথির এলাকার বিভিন্ন বুথ থেকে ৪৫টি পরিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। দলের অঞ্চল পার্টি অফিসে তৃণমূলে আসা কর্মী সমর্থকদের হাতে দলীয় ঝান্ডা তুলে দেন কোচবিহার-২ ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর দে। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় ফের ব্লক সভাপতির হাত ধরে কোচবিহার-২ ব্লকের পুণ্ডিবাড়ি-আঙারকাটার ১৫৪ নম্বর বুথের ১৪টি পরিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখায়।

    এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই বিধানসভা এলাকার বিজেপির-১ নম্বর মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি সানন্দ সরকার ও মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হেমলতা সরকার তৃণমূলে যোগদান করেন। তৃণমূলের কোচবিহার-২ ব্লক সভাপতি বলেন, এসআইআরের নামে হয়রানি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে বিজেপি। মানুষকে অকালে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দলের এমন কর্মকাণ্ডে হয়রানির মুখে পড়া খোদ বিজেপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ। আসলে এসআইআরের নাম করে তৃণমূলকে জব্দ করতে চেয়েছিল বিজেপি। এখন সেটাই বুমেরাং হয়ে ফিরছে ওদের দিকে। তাই বিজেপির নেতা-কর্মীদের গেরুয়া শিবির ত্যাগ করার হিড়িক পড়েছে। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছি।

    অন্যদিকে, কোচবিহার উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায় অবশ্য বলেন, তৃণমূল লোক পাচ্ছে না। তাই দলের লোকের হাতেই দলীয় ঝান্ডা ধরিয়ে দিয়ে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারে আসতে চাইছে। ওদের মিথ্যা ফানুস চুপসে যাবে। এই বিধানসভা বিজেপির শক্তঘাঁটি। যতই চেষ্টা করুক কোনো লাভ নেই। ভোটের রেজাল্টে সব প্রমাণ হয়ে যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)