• ফুলবাজারে শিবির তৃণমূলের, সরব বিরোধীরা
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, কোলাঘাট: কোলাঘাটের দেউলিয়া বাজারে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ফুলবাজার (Flower Market)। দুর্ঘটনা এড়াতে ফুলবাজারটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। পাঁচ বছর আগে দেউলিয়া ফুলবাজারের অদূরে পানশিলায় জাতীয় সড়কের (National Highway) জায়গার উপরে ৪ কোটি টাকা খরচ করে একটি ফুলবাজার গড়ে তোলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। কিন্তু এখনও সেটি চালু হয়নি। গত লোকসভা ভোটের সময় ফুলবাজার এলাকায় অস্থায়ী পার্টি অফিস তৈরি করে বিতর্কে জড়িয়েছিল শাসকদল। এ বার পানশিলা ফুলবাজারে সহায়তা কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে তারা। এই নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কোলাঘাটের দেউলিয়ায় প্রতিদিন ভোর থেকে বসে রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম ফুলবাজার। দুই মেদিনীপুর ও হাওড়ার প্রায় তিন হাজার ফুলচাষি প্রতিদিন ফুল নিয়ে আসেন এখানে। বাজারটি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কিছুটা অংশ জুড়ে বসার ফলে ভোরের দিকে মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।

    শীতকালে (Winter) কুয়াশার সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ে। পথ দুর্ঘটনা ঠেকাতে ২০১৯-এর জানুয়ারি মাসে দেউলিয়া ফুলবাজারটি কিছুটা দূরে পানশিলা এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০২১-এর ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে তিন একর নয়ানজুলি ভরাট করে গড়ে তোলা হয় ফুলবাজার। এর জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় চার কোটি টাকা। ফুলবাজারের যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়ে গেলেও এখনও সেটি চালু হয়নি। বন্ধ ফুলবাজারে কখনও কখনও মজুত রাখা হয় নির্মাণ সামগ্রী। ফুলবাজারে দালান ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। গত লোকসভা নির্বাচনের (Loksobha Election) সময়ে পানশিলা ফুলবাজারে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় তৈরি করে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন কোলাঘাটের তৃণমূল নেতারা।

    আবারও পানশিলা ফুলবাজারে শাসকদলের সহায়তা কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পানশিলা ফুলবাজারে চলছে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। ফুলবাজারে ঢোকার মুখে সরকারি পরিষেবার তোরণের পাশে রীতিমতো দলীয় পতাকা লাগিয়ে ক্যাম্প করেছেন শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। ফুলবাজার চালু না করে সেখানে শাসকদলের ক্যাম্প তৈরি কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এসইউসির (SUCI) জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, 'পানশিলা ফুলবাজার কার্যত শাসকদলের দখলে। তৃণমূল (TMC) বিভিন্ন সময় ফুলবাজারটিকে দলীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করে। অথচ এখনও ফুলবাজারে ফুলের বেচাকেনা শুরু হলো না। অবিলম্বে পানশিলা ফুলবাজার চালুর দাবি জানাচ্ছি। সরকারি জায়গায় রাজনৈতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হোক।' বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি দেবব্রত পট্টনায়ক বলেন, 'তৃণমূলের আমলে সরকার আর শাসকদলের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই। সব জায়গায় তৃণমূল সরকারি জায়গাকে দলীয় সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। এটাই ওদের সংস্কৃতি।'

    কোলাঘাট ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসীম মাজি বলেন, 'সরকারি জায়গায় সরকারি প্রকল্পে সহায়তার জন্য আমরা ক্যাম্প করেছি। এর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা পেতে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য।' পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন, 'কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য পানশিলা ফুলবাজার চালু করা যায়নি এতদিন। খুব তাড়াতাড়ি সেটি চালু হয়ে যাবে।'

  • Link to this news (এই সময়)