• বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের মৃত্যু নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, তখনই ৭৫টি সংখ্যালঘু স্কুলের ফাইলে ছাড়পত্র, বিতর্ক
    এই সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) বিমান দুর্ঘটনার (Ajit Pawar Plane Crash) তদন্ত এখনও চলছে। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। এর মধ্যে দুর্ঘটনার দিন প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধল। অভিযোগ, বিমান দুর্ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি বুধবার এক ঝটকায় ৭৫টি স্কুল সংক্রান্ত ফাইলে অনুমোদন দিয়েছিল মহারাষ্ট্র সরকারের সংখ্যালঘু দপ্তর (Maharashtra Minority Department )। এত অল্প সময়ের মধ্যে কী ভাবে এতগুলো ফাইল যাচাই করে ছাড়পত্র দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

    ২৮ জানুয়ারি চার্টার্ড ফ্লাইটে মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত। জেলা পরিষদের নির্বাচনের আগে NCP-র রাজনৈতিক ঘাঁটি বারামতীতে চারটি প্রচার সভা করার কথা ছিল তাঁর। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ রানওয়ের কাছে আছড়ে পড়ে অজিতের বিমান। দাউদাউ করে জ্বলে কার্যত ছাই হয়ে যায় পুরো বিমানটি। অজিত-সহ চার্টার্ড ফ্লাইটে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়।

    মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে ৭৫টি শিক্ষা সংক্রান্ত ফাইলে অনুমোদন দিয়ে দেয় সংখ্যালঘু দপ্তর। সরকারি সূত্রে খবর, ওই ফাইলগুলিতে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, অনুমোদনের প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের একাংশের দাবি, একদিনে এত বিপুল সংখ্যক ফাইলে ছাড়পত্র দেওয়া মোটেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। গুরুতর অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    মূলত তিনটি প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। প্রথমত, দুর্ঘটনার দিনই কেন এবং কী ভাবে ৭৫টি ফাইলে অনুমোদন দেওয়া হলো? দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক নিয়ম মেনে সব ফাইলগুলি যথাযথ ভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না? তৃতীয়ত, আগে থেকেই অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল, না হঠাৎ করে দেওয়া হয়েছে?

    এই ঘটনা সামনে আসতেই সংখ্যালঘু দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি মিলিন্দ শেনয়কে (Milind Shenoy) বদলি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সরকার। প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এত বড় দুর্ঘটনার দিনে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। তবে আদৌ কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, সরকারি সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)