পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ড এবং দিল্লিতে দুই ভাইকে প্রকাশ্য রাস্তায় ঝাঁঝরা করে দেওয়ার ঘটনায় বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। বুধবার ভোরে দক্ষিণ দিল্লির মহীপালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুখ্যাত শার্পশুটার মাহফুজ আলি ওরফে ‘ববি কবুতর’-কে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্পেশাল সেলের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ফাঁদ পেতে একটি এসইউভি গাড়ি থেকে এক মহিলা ও দুই সঙ্গী সমেত তাকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রও।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বছর ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্ব দিল্লির জ়াফরাবাদে জিম মালিক ফাজিল ও নাদিম নামে দুই ভাইকে স্কুটার থামিয়ে ৪৮ রাউন্ড গুলি করার ঘটনায় মূল শুটার ছিল এই ববি।
শুধু তাই নয়, ২০২২ সালে সিধু মুসেওয়ালা খুনের আগে গায়কের গতিবিধির উপরে নজরদারি চালানো এবং শুটারদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ববির বড় হাত ছিল বলে সন্দেহ পুলিশের। তাদের আরও সন্দেহ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লির গ্রেটার কৈলাশে জিম মালিক নাদির শাহকে খুনের ঘটনাতেও শুটারদের অস্ত্র ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েছিল ববি কবুতর।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অঙ্গুলিহেলনেই এই হত্যাকাণ্ডগুলি ঘটেছিল। ববি কবুতর মূলতঃ হাশিম বাবা গ্যাং-এর একজন অন্যতম প্রধান শুটার। হাশিম বাবা আবার কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই দুই গ্যাংয়ের মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
গত ১০ বছর ধরে পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল ববি। একসময়ে সে নিজের বাড়ির ছাদে পায়রা বা কবুতর পুষত। সেই থেকেই তার নাম হয়ে যায় ‘ববি কবুতর’। দিল্লির ঘিঞ্জি এলাকার সরু গলি আর পরপর ছাদ টপকে বারবার সে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েছে। অবশেষে স্পেশাল সেলের জালে ধরা পড়ল এই দুর্ধর্ষ অপরাধী।