আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে এক পরীক্ষার্থীকে ঘিরে দুই পরিবারের টানাপোড়েনে চাঞ্চল্য ছড়াল। মা ও শাশুড়ির টানাহ্যাঁচড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গুসকরা শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই ছাত্রী স্থানীয় গুসকরা গার্লস হাই স্কুলের পড়ুয়া। প্রায় তিন বছরের সম্পর্কের পর সম্প্রতি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি সুরজ পাসোয়ানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যেই দু’সপ্তাহ আগে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মেয়ের পরিবারের একাংশ এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিল বলে অভিযোগ, যদিও ছেলের পরিবার বলছে দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতেই সম্পর্কটি স্থির হয়েছিল।
বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন ছাত্রী। সোমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে তিনি গুসকরা পি পি ইন্সটিটিউশন কেন্দ্রে যান। স্বামী তাঁকে কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। এদিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই স্কুলগেটের বাইরে উপস্থিত হন ছাত্রীর মা। অভিযোগ, পরীক্ষা দিয়ে বেরোতেই মেয়েকে নিজের সঙ্গে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। অন্যদিকে, শাশুড়িও বউমাকে নিয়ে যেতে অনড় ছিলেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের টানাটানিতে ছাত্রী মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান।
তৎক্ষণাৎ তাঁকে গুসকরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়েও দুই পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চলতে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, তিনি এখনই মেয়ের বিয়ে দিতে চাননি এবং মেয়েকে আরও পড়াশোনা করাতে চেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলের পরিবার ও এলাকার কয়েকজনের সহায়তায় তাড়াহুড়ো করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রী স্পষ্ট জানায়, সে শ্বশুরবাড়িতেই থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসনের নজর রয়েছে বলে সূত্রের খবর।