আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। জানালেন রাজ্যের উদ্যোগ এবং চালের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তির কথা। রাজ্যবাসীকে জানালেন, রাষ্ট্রপুঞ্জ রাজ্যের একাধিক বিষয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে একইসঙ্গে।
বুধবার রায়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ফেসবুক এবং এক্স হ্যান্ডেলে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতিসংঘ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে। উল্লেখ করেছেন 'মাটির সৃষ্টি' প্রকল্পের। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি, জাতিসংঘ আবারও আমাদের উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা আমাদের উদ্ভাবনী 'মাটির সৃষ্টি' কর্মসূচিতে আমাদের সামাজিক উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যবান সার্টিফিকেট প্রদান করেছে' রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ শুরু করে পাঁচ বছর আগে, ২০২০ সালে। মূলত শুষ্ক পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়।
মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, 'এখন, এই সৃজনশীল এবং বহু-বিভাগীয় ধারণাটি প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি যোগ্য সম্প্রদায় উদ্যোগ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। 'মাটির সৃষ্টি' উদ্যোগে, আমরা একটি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছি যা জমি, সেচ এবং পঞ্চায়েত সম্পর্কিত কৌশলগুলিকে একীভূত করে। দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনুর্বর, অকৃষিযোগ্য, শুষ্ক, এক-ফসল জমিকে অবশেষে উর্বর এবং উদ্যানপালন এবং সবজি চাষ সহ একাধিক ফসল চাষের জন্য চাষযোগ্য করে তোলা। পুকুর এবং অন্যান্য সেচ উৎসের মতো নতুন সেচ সুবিধা তৈরি করে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ জীবিকার সুযোগ তৈরি হয়েছে, পারিবারিক আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।'
পোস্টে, তারপরেই উল্লেখ করেছেন রাজ্যের তিন সুগন্ধী চালের স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনাটিকে। এই তিন চাল হল, গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড়। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'আমি আরও আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে জাতিসংঘ (FAO) পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড় সুগন্ধি চালকে খাদ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।'
জাতিসংঘ যে স্বিকৃতি শংসাপত্র দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রি সেগুলিও ভাগ করে নিয়েছেন সকলের সঙ্গে। একেবারে শেষ অংশে তিনি উল্লেখ করেছেন, এই স্বীকৃতি গ্রামীণ সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে বাংলার কৃষকদের উৎসর্গ করছেন। লিখেছেন, 'প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য এবং খাদ্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ভাল কাজের জন্য জাতিসংঘ-এফএও-এর স্বীকৃতি একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মান। আমরা এই স্বীকৃতি আমাদের সমগ্র গ্রামীণ সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে বাংলার কৃষকদের প্রতি উৎসর্গ করছি।'