আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেলায় অবৈধ কয়লা পাচার নিয়ে সরব হলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা এসআরডিএ-র চেয়ারম্যান এবং জেলা তৃণমূল কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। এই কয়লা পাচার রুখতে গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ করছে যা পুলিশের করার কথা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব পুলিশ তো আর খারাপ নয়। হাতের যেমন পাঁচটা আঙুল সমান নয়, কিছু পুলিশ তো নোংরামির সঙ্গে জড়িত আছে। সেজন্যই কয়লা পাচারের বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং-কে জানিয়েছি বলে সাংবাদিকদের জানান।
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে শ্রীনিকেতন শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহ-এ চলছে গীতাঞ্জলি উৎসব এবং হস্ত ও লোকশিল্প মেলা। এই উপলক্ষে বুধবার দুর্গাপুজো কার্নিভালের পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা-সহ বোলপুর পুরসভার কাউন্সিলাররা। অনুষ্ঠানে গত বছরের দুর্গাপুজোর সেরা পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করা হয়। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বোলপুরের উন্নয়ন ও চলমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, গীতাঞ্জলিতে সাত দিন ধরে অনুষ্ঠান হল। কী সুন্দর প্রোগ্রাম। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বোলপুরে কিন্তু একটা বিরাট সাড়া ফেলেছে। এছাড়া এদিন কার্নিভালের এই প্রাইজ, এটাও কিন্তু একটা বিরাট ব্যাপার। বোলপুর কিন্তু সত্যিই ছন্দে ফিরে এসেছে। সুন্দর একটা পরিবেশ হয়েছে এবং এটা দেখার মতো। সবই মমতা ব্যানার্জির জন্যে। যেহেতু এই গীতাঞ্জলির সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার। তিনি সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছেন, মেলা করেছেন—এতে কিন্তু খুব ভালো হয়েছে। বোলপুরের মানুষ সাড়া দিয়েছেন।
জেলার অবৈধ কয়লা ও বালি পাচার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, সেটা তো আমিই এসপিকে বলেছি। আমি তো এসপি-কে বলার পর নাকা চেকিং করেছে। গ্রামগঞ্জের মানুষ আমাকে খবর দিয়েছেন ঝাড়খন্ড থেকে রামপুরহাট দিয়ে ঢুকছে, মহম্মদবাজারে ঢুকছে, তারপর রাজনগর হয়ে সিউড়ি হয়ে ঢুকছে, এগারো মাইল হয়ে ঢুকছে। জেলা পুলিশ সুপারকে আমি যা বলার বলেছি।
এরপর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, সব পুলিশ তো আর খারাপ নয়। হাতের যেমন পাঁচটা আঙুল সমান নয়। কিছু পুলিশ তো নোংরামির সঙ্গে জড়িত আছে, না হলে আমি এসপি-কে বললাম কেন? এসপি নিশ্চয়ই দেখছে এবং নাকা চেকিংও করেছে। আর শহরের ভেতরে দু’নম্বরি বালি চলাচলের বিষয়টি ডিএম দেখছেন, ওটা জেলা প্রশাসনের বিষয়।
প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলায় অবৈধ কয়লা পাচার ও বেআইনি বালি পরিবহণের ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই পাচার চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষ এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনুব্রত মণ্ডল যেভাবে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন, তা জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।