অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘আমরা সিইও দপ্তরে এসেছিলাম কিছু অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট অনুমোদনের কথা থাকলেও ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকেই পোর্টাল বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হবেন না তো?’ তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেন, বাংলার বিরুদ্ধে একটি ‘বঞ্চনার চক্রান্ত’ চলছে। তাঁর কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং ডোমিসাইল আইন থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে। ওরা ভেবেছিল অন্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও একইভাবে এই প্রক্রিয়া চালাবে। কিন্তু এখানে তা সম্ভব নয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
মহুয়া মৈত্র আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, একজন রোল অবজারভার সি. মুরুগন মাইক্রো-অবজারভারদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে আইনবহির্ভূত নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ওই গ্রুপে পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া জন্মসনদ গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।
মহুয়ার বক্তব্য, ‘সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, মাইক্রো-অবজারভারদের কাজ শুধুমাত্র সহায়তা করা। ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই। তবুও অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে রোল অবজারভারদের লগইন দূরবর্তী স্থান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষভাবে নাম যাচাইয়ের নামে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পোর্টালে আপলোড করা গুরুত্বপূর্ণ নথি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, ‘যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা করতেই আমরা জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়গুলি নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছি।’
তৃণমূলের প্রতিনিধিদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কমিশন যাতে দ্রুত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে তারা জোর দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।