এসআইআরের ভোট-অঙ্ক, সংখ্যালঘু নাম নিয়ে বাড়ছে চাপানউতোর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বহু ক্ষেত্রে ইআরও স্তরে ‘ফাউন্ড ওকে’ করা নাম রোল অবজার্ভারদের লগ-ইন থেকে ‘টু বি রিভিউড’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এমন ঘটনা বেশি ঘটছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই নামগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এক জেলায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এমন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার, যা পরদিন সকালেই বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজারের কাছাকাছি। যদিও মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর এই অভিযোগ খারিজ করেছে। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ১৩টি নথির বাইরে কাগজ জমা দেওয়া বা যাচাইয়ে অসঙ্গতি থাকলেই এমন হতে পারে।
কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রথম ধাপে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ১৮ লক্ষ সংখ্যালঘু ভোটার— মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা অদৃশ্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিত। রাজনৈতিক সূত্রে আরও দাবি, যাঁরা নোটিস পেয়েছেন সেই দেড় কোটির মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে। যদি তা-ই হয়, তার বড় অংশ সংখ্যালঘু হতে পারে বলেই অনুমান বিরোধী শিবিরের।
বিজেপির কৌশলগত ভাবনায়, ডুপ্লিকেট কিংবা অযৌক্তিক নাম বাদ গেলে বহু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে ব্যবধান কমতে পারে। যেখানে অতীতে অল্প ব্যবধানে হার হয়েছিল, সেখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারে পদ্মশিবির। অন্যদিকে তৃণমূলের হিসেব বলছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা থাকলেও সংখ্যালঘু ও উপভোক্তা শ্রেণিই তাদের শক্তি। বাংলার বাড়ি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী— এই তিন প্রকল্প মিলিয়ে উপভোক্তার সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। এই সমর্থন ধরে রাখতে পারলে ফল ইতিবাচক হতে পারে বলেই মনে করছে শাসক শিবির।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশই এখন নির্ধারণ করবে নির্বাচনের প্রাক্-পর্বের আবহ। সংখ্যার অঙ্কে সামান্য হেরফেরও বহু আসনের ফলাফল বদলে দিতে পারে। তাই ঘোষণার আগেই চূড়ান্ত তালিকার দিকে নজর দু’পক্ষেরই। ভোটের ভবিষ্যৎ এবার অনেকটাই নির্ভর করছে সেই সংখ্যাতত্ত্বের উপর।