জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ডোমিসাইল ডামাডোল! শুনানি শেষ হওয়ার পরেও কেন নির্দেশিকা? SIR ইস্যুতে ফের CEO দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। সাংসদ পার্থ ভৌমিক জানালেন, 'সবার ক্ষেত্রেই ডোমিশাইল সার্টিফিকেট গ্রাহ্য় বলে আশ্বাস দিয়েছেন CEO। যাঁদের ফর্ম আপলোড হল না তাঁদে বিষয়টিও বিবেচনার সঙ্গে দেখবে কমিশন। পোর্টাল খোলা হবে'।
বাংলায় SIR-র শুনানি পর্ব শেষ। কিন্তু ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র জমা দিয়ে যারা ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাদের একটি বড় অংশই এখন কমিশনের স্ক্যানারে। কমিশন সূত্রে খবর, জমা পড়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়নি। বস্তুত, এখনও পর্যন্ত যতজন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়েছেন তাঁদের ৯০% নাকি এই সার্টিফিকেটের অধিকারী নন! স্রেফ ওই আবেদনকারীদের তালিকা বাদ দেওয়াই নয়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্য়বস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার SIR নিয়ে ফের কমিশনকে নিশানা করেন মুখ্য়মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ১৪ তারিখ ছিল সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ অনুযায়ী, হিয়ারিং হবে। ১৪ তারিখ বেলা তিনটে নাগাদ ব্লক করে দিলেন কেন লগ ইন? লক্ষাধিক মানুষের নাম ছিল। যাদের প্রোসেস হয়ে গিয়েছিল। যাঁদের মধ্যে অনেকেই বৈধ ভোটার। কিন্তু তাদের লগ ইন করতে না দিয়ে, তাদের করতে দেওয়া হল না'। এরপরই আজ, বুধবার ফের নির্বাচন কমিশনে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের ইস্যু করা শংসাপত্রই গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বদলে অন্য স্তর থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ করে জমা দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
কারা এই সার্টিফিকেটের যোগ্য?রাজ্য সরকারের ১৯৯৯ সালের বিজ্ঞপ্তি এবং চলতি বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে:
সেনাকর্মী: যারা সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তারা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট হিসেবে এটি পাবেন।
পরীক্ষার্থী: বর্তমানে যারা সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষায় বসছেন, তারা এটি পাওয়ার অধিকারী।
দীর্ঘমেয়াদী বাসিন্দা: ভিন রাজ্য থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন এমন ব্যক্তিরা।
কমিশন সূত্রে খবর, যথাযথ যাচাই না করে বা এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে যারা এই সার্টিফিকেট ইস্যু করেছেন, সেইসব আধিকারিকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সার্টিফিকেট বিলি করার অপরাধে তাঁদের ওপর 'শাস্তির খাঁড়া' নামতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।