• মহানগরের দূষণ রুখতে প্রশিক্ষণে ‘পরিবেশ দূত’রা, নাগরিক স্বাস্থ্যরক্ষায় উদ্যোগী কলকাতা পুরসভা
    এই সময় | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    উষ্ণায়ন আর দূষণের দাপট ক্রমেই বাড়ছে আর তাতে নাজেহাল মহানগর। এই পরিস্থিতিতে কলকাতাকে (Kolkata) বাঁচাতে কেবল প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও নজরদারি নয়, জনসচেতনতাকেই হাতিয়ার করতে চাইছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নিঃসরণ কমিয়ে কী ভাবে ও কত তাড়াতাড়ি শহরকে ‘নেট জি়রো এমিশন’-এর লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরসভা কর্তৃপক্ষ। কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (পরিবেশ) স্বপন সমাদ্দার বলছেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য অগাধ সম্পত্তি রেখে যাওয়ার চেয়ে সুস্থ পরিবেশ দিয়ে যাওয়া অনেক বেশি জরুরি। তার জন্যই এ রকম কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত।’

    পুরসভা সূত্রের খবর, দু’দিনের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেট জি়রো এমিশন অ্যান্ড কার্বন ক্রেডিট’। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নিখরচায়। মূলত স্নাতক স্তরের পড়ুয়া ও উৎসাহী তরুণ–তরুণীদের বেছে নেওয়া হয়েছে এই প্রশিক্ষণের জন্য। প্রথম ধাপে ৫০–এর বেশি আবেদনকারীর মধ্যে থেকে ২৫ জনকে নিয়ে শুরু হয়েছে এই ক্লাস। পুরসভা কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সমাজের তৃণমূল স্তরে পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করবেন। মঙ্গলবার ও বুধবার হয় এই প্রশিক্ষণ শিবির। পুরসভার তরফে শংসাপত্র দেওয়া হয় সফলদের।

    পুরসভা সূত্রের খবর, গ্রিনহাউস গ্যাসের বিষয়ে জানানো হয়েছে তরুণ–তরুণীদের। কোন কোন গ্যাস তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে এবং সেগুলো কোথা থেকে উৎপন্ন হয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে কী ভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব, সে সব বোঝানো হচ্ছে এই কোর্সে। একই সঙ্গে কার্বন শুষে নেওয়ায় গাছের ভূমিকা, কোন গাছ পরিবেশের জন্য বেশি কার্যকর, এ সব বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠও মিলছে এই প্রশিক্ষণে। নির্মাণকাজের সময়ে দূষণ ঠেকানোর জন্য কী কী করণীয়, শেখানো হচ্ছে সেটাও।

    কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ নেওয়া ওই ৫০ জন পরবর্তীতে ‘পরিবেশ দূত’ হিসেবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবেন। কোসর্টি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পরিবেশবিজ্ঞানী অভিজিৎ মিত্র। তিনি বলেন, ‘গাছ পুঁতলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। প্রতিটি গাছের কার্বন শোষণ করার ক্ষমতা আলাদা। কোন প্রজাতির গাছ কতটা পরিমাণ কার্বন-ডাইঅক্সাইড টেনে নিতে সক্ষম, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে সেটা জানানো হচ্ছে।’

    কার্বন ক্রেডিটের মতো জটিল বিষয়কে তৃণমূল স্তরে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে তোলাই কোর্সের লক্ষ্য। কারণ, জনসচেতনতা ছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমানো এক রকম অসম্ভব, মত অভিজিতের। কলকাতা পুরসভার পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা, পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলছেন, ‘ব্যক্তিগত পরিসরে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কী ভাবে কমানো যায়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেটা তরুণ–তরুণীরা জানতে পারবেন।’ তাঁর বক্তব্য, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা আগামী দিনে শহরের ‘পরিবেশ রক্ষক’ হিসেবে কাজ করবেন, তবে মনে রাখতে হবে, এটি কেবল দু’দিনের কোর্স নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের শুরু।

  • Link to this news (এই সময়)