• প্রতীকউরই আগে ব্যাট চালান, চায় ‘কৌশলী’ আলিমুদ্দিন
    এই সময় | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: প্রতীকউর রহমান (Pratik Ur Rahaman) প্রকাশ্যে সিপিএম নেতৃত্বকে আক্রমণ করলে তবেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট বিক্ষুব্ধ এই তরুণ নেতাকে বহিষ্কারের পথে হাঁটবে। প্রতীকউরই আগে এই পথে হাঁটুন— এটাই চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

    সিপিএম ছাড়ার কথা জানিয়ে প্রতীকউর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে চিঠি পাঠালেও তিনি যে দল ছেড়ে দিয়েছেন, তা বুধবারও প্রকাশ্যে স্পষ্ট করে বলেননি প্রাক্তন এই এসএফআই নেতা।

    একটি সংবাদমাধ্যমে বুধবার প্রতীকউর বলেছেন, ‘আমি সিপিএমে আছি কি না সিপিএম জানে। আমি সিপিএমের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলাম। এখনও কথা বলতে চাই। কিন্তু বিমানদার সঙ্গে যে কথা হয়েছে, তা–ও সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যা দিয়েছি, তা ২০ িমনিটে ফাঁস হয়ে গিয়েছে। ফলে ওখানে (আলিমুদ্দিন স্ট্রিট) কথা বলার গোপনীয়তা আর নেই। দলের মধ্যে যারা কালপ্রিট রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন। জানি নেওয়া হবে না। কাছের লোককে বাঁচানোর চেষ্টা হবে।’ প্রতীকউরের এই কৌশলী অবস্থান দেখে সিপিএমও পাল্টা কৌশল নিয়েছে।

    বুধবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয়েছে, প্রতীকউর যখনই সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব এবং দলকে খোলাখুলি আক্রমণ করবেন, তখনই প্রাক্তন এসএফআই নেতাকে বহিষ্কার করা হবে। সিপিএম নেতৃত্ব এটাই দেখাতে চাইছেন যে, প্রতীকউরের সঙ্গে অশীতিপর বিমান বসু পর্যন্ত কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে আসেননি। ফলে সিপিএম ছাড়বেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়েছেন তিনি।

    আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের এক নেতার বক্তব্য, ‘প্রতীকউর তৃণমূলের কোন কোন নেতার সঙ্গে কতদিন ধরে কথা চালিয়েছেন, তৃণমূল থেকে তাঁকে কী আশ্বাস দেওয়া হয়েছে— এই বিষয়ে আমরাও খোঁজখবর নিয়েছি। আমাদের অনুমান, এক–দু’দিনের মধ্যে প্রতীকউর আনুষ্ঠানিক ভাবে সাংবাদিক সম্মে‍‍লন করবেন। তখনই দল সিদ্ধান্ত জানাবে।’ তবে সিপিএমের রাজ্য কমিটির কোন সদস্য প্রতীকউরের ইস্তফার চিঠি ফাঁস করেছে‍ন, তা নিয়ে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে জলঘোলা হয়েছে।

    রাজ্য কমিটির সেই সদস্যকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা চিহ্নিত করেছেন বলেও দলের একাংশের বক্তব্য। প্রতীকউরের পাশাপাশি সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সৃজন ভট্টাচার্যের গতিবিধির দিকেও নজর রাখছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সিপিএমের এক নেতার পর্যবেক্ষণ, ‘এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও সৃজনকে গত কয়েক মাসে সে ভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। অন্য গণসংগঠনের সম্মেলনেও তাঁকে দেখা যায়নি।’

    দিল্লিতে গোপালন ভবনের কয়েকজন সিপিএম নেতা প্রাক্তন ছাত্র নেত্রী দীপ্সিতা ধরের কাজকর্মের দিকেও নজর রেখেছেন। এই প্রেক্ষাপটে সিপিএমের আইনজীবী নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, ‘বিজেপি থেকে তিনবার ফোন এসেছিল। সামনে বিধানসভা ভোট তার জন্য মরিয়া চেষ্টা হচ্ছে। এটা তো জামা নয় যে বদল করে নেব। একটি মতাদর্শে বিশ্বাস করি।’

  • Link to this news (এই সময়)