• পা বাদ যাওয়া থেকে বাঁচলেন যুবক, R G Kar-এ হল উরুর নীচের হাড়ের সফল প্রতিস্থাপন
    ২৪ ঘন্টা | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন শর্মা: উত্তর ২৪ পরগনার বিড়ার বাসিন্দা ৩১ বছরের শ্রমিক রিজাউদ্দিন মণ্ডলের জীবনে নতুন আশার আলো দেখাল আরজি করের চিকিৎসক দল। ২০২৩ সালে লরি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন রিজাউদ্দিন। তাঁর ডান পায়ের ডিস্টাল ফিমার (উরুর নীচের অংশের হাড়) ভেঙে খোলা ক্ষত ও হাড়ের ঘাটতি (বোন লস) তৈরি হয়। একই বছরের মে মাসে প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। জুন মাসে খোলা ক্ষত ঢাকতে প্লাস্টিক সার্জারি এবং আগস্টে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে দেখা যায়, তাঁর ফিমারে মারাত্মক হাড়ের ঘাটতি রয়ে গেছে।

    ২০২৪-এর জুলাইয়ে রোগীর নিজের হাঁটুর প্যাটেলার হাড়ের গ্রাফট ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর সামনে আসে ২ কঠিন বিকল্প— টিউমার প্রোস্থেসিস বসানো অথবা পা কেটে বাদ দেওয়া (অ্যাম্পুটেশন)। রোগীর বয়স কম হওয়ায় চিকিৎসকরা হাঁটু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তখন সিদ্ধান্ত হয় ডিস্টাল ফিমার পুনর্গঠনে অ্যালোগ্রাফট ব্যবহার করা হবে। কিন্তু তাজা ক্যাডাভেরিক (মৃতদেহ থেকে সংগৃহীত) অ্যালোগ্রাফট অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কলকাতায় সহজলভ্য নয়। বিষয়টি হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হলে প্রশাসন রোগীর পাশে দাঁড়ায় এবং প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মঞ্জুর করে অ্যালোগ্রাফট সংগ্রহের ব্যবস্থা করে।

    রোগীর সিটি স্ক্যান করে থ্রিডি মডেল তৈরি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় পরিবেশে তাজা ক্যাডাভেরিক অ্যালোগ্রাফট সংগ্রহের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সফলভাবে ডিস্টাল ফিমারের অ্যালোগ্রাফট ফিক্সেশন করা হয়।

    চিকিৎসকদের আশা, এই জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রিজাউদ্দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং তাঁর হাঁটু রক্ষা পাবে।,পূর্ব ভারতের মধ্যে ডিস্টাল ফিমারের অ্যালোগ্রাফট রিকনস্ট্রাকশনের এটি প্রথম সফল অস্ত্রোপচার বলে দাবি করেছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর অর্থোপেডিক্স বিভাগ।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)