• ‘AI-কে ভয় নয়, ভারত এতে ভবিষ্যৎ দেখতে পায়’, Summit-এ MANAV ভিশনের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
    এই সময় | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • AI Summit 2026 India-র মঞ্চে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভারতের ভবিষ্যৎ বলে ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের অগ্রগতিতে AI কী প্রভাব ফেলছে, ভবিষ্যত নিয়ে কী ভাবা হচ্ছে এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister Narendra Modi) কথায়, ‘আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে কাজ করবে।’ তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লাগাম যে নিজেদের হাতে রাখতে হবে তা নিয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

    দিল্লিতে AI Summit 2026 India-র মঞ্চে উঠে গুগল-এর সিইও সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai) থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাক্রোঁর (French President Emmanuel Macron) মতো বিশ্ববন্দিত ব্যক্তিত্বদের অভ্যর্থনা জানান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই সামিট আয়োজন করছে ভারত। মানব ইতিহাসে কিছু শতাব্দী অন্তর একটি করে টার্নিং পয়েন্ট আসে। সেখান থেকেই বিকাশের গতি বাড়ে। কাজ করা, চিন্তাভাবনার ধরন বদলে যায়। যখন পাথর থেকে প্রথম আগুন বেরিয়েছিল, কেউ ভাবতে পারেনি, ওই আগুনই মানব সভ্যতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। AI মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমনই এক ট্রান্সফর্মেশন। আমরা যা দেখছি, তা শুধু শুরুর সঙ্কেত। AI মানুষের সামর্থ্য আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’

    তবে AI-কে নিয়ে সতর্ক থাকারও বার্তা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘কিছু মানুষ নতুন প্রযুক্তি নিয়ে সন্দিহান। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম যেভাবে AI কে গ্রহণ করছে তা আগে কখনও দেখা যায়নি। AI সামিট প্রদর্শনী নিয়েও প্রবল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। অতীতে নতুন প্রযুক্তির সুফল পেতে কয়েক দশক লেগে যেত। তাই আমাদের ভিশন যেমন বড় রাখতে হবে, তেমনই দায়িত্বশীলও হতে হবে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আগামী প্রজন্মের হাতে আমরা AI-কে কী ভাবে তুলে দেব। অতীতেও সঙ্কট ও উন্নয়নের টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়েছে মানবসভ্যতা। যেমন পরমাণু শক্তি। ইতিবাচক ও নেতিবাচক, দুই দিকই রয়েছে। যখন ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছিল, তখন সবাই ভেবেছিলেন, চাকরি চলে যাবে। কিন্তু এর জন্যই কত চাকরি তৈরি হয়েছে। AI-কে কী ভাবে মানবতামুখী ও সংবেদনশীল করা যায়, সেটাই এই সামিটের মূল উদ্দেশ্য।’

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন,‘মানুষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য কেবল তথ্য কেন্দ্র হওয়া উচিত নয়, অথবা তাদেরকে কেবল কাঁচামালে পরিণত করা উচিত নয়। অতএব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গণতন্ত্রীকরণ দরকার। AI-কে স্বাধীনতা দিতে হবে, একইসঙ্গে তাকে পরিচালনা করার কাজও মানুষের হাতে রাখতে হবে।’

    AI প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী MANAV ভিশনের উল্লেখ করেন। ব্যাখ্যা তিনি বলেন, ‘M মানে নৈতিক এবং নীতিগত ব্যবস্থা। নৈতিক নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে AI-এর এগোনো উচিত। A মানে অ্যাকাউন্টেবল গর্ভন্যান্স, যার অর্থ স্বচ্ছ নিয়ম এবং দৃঢ় তত্ত্বাবধান। N মানে সার্বভৌমত্ব, অর্থাৎ যাঁর তথ্য, তাঁর অধিকার। A অর্থাৎ সকলের অ্যাক্সেস এবং পরিশেষে AI হওয়া উচিত বৈধ এবং যাচাইযোগ্য।’

    এ দিনের মঞ্চ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একবিংশ শতাব্দীর মানবতার কল্যাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)